“সংঘকে কি পিঁপড়ে কামড়াবে?” মমতার কটাক্ষের মাঝেই আমেরিকায় ভারতের হয়ে সওয়াল দত্তাত্রেয় হোসালের!

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) কি কেবলই কুচকাওয়াজ আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ? নাকি এর আড়ালে রয়েছে সমাজসেবার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ? শতবার্ষিকী বছরে পা দেওয়ার আগেই নিজেদের নিয়ে প্রচলিত “ভুল ধারণা” ভাঙতে এবার কোমর বেঁধে আন্তর্জাতিক ময়দানে নামল আরএসএস।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত ও সংঘ সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে চলা “বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার” মোকাবিলা করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
“সাফল্যের ১০ শতাংশই কেবল সামনে আসে”
ওয়াশিংটনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোসাবলে দাবি করেন, আরএসএস-এর কাজের ৯০০ শতাংশই সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকে। তিনি বলেন, “যখন আমরা আমাদের সেবামূলক কাজ বা ‘একল বিদ্যালয়’-এর কথা বলি, তখন পশ্চিমী বিশ্ব অবাক হয়ে যায়।” তাঁর মতে, সংঘ কেবল প্রথাগত চিন্তায় বিশ্বাসী নয়, বরং প্রযুক্তি ও আধুনিক মূল্যবোধের সঙ্গে তাল মিলিয়েই কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকরা।
রাষ্ট্রসংঘ ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ
সাম্প্রতিক সময়ে আরএসএস-কে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা বেড়েছে। এমনকি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিও রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে সংঘের নাম তুলেছিলেন। হোসাবলে মনে করেন, এখন সময় এসেছে বিশ্বের সামনে সংঘের প্রকৃত এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভারত ৫০০০ বছরের পুরনো এক সভ্যতা। একে উপেক্ষা করার সাধ্য কারও নেই।”
প্রধান আকর্ষণীয় পয়েন্টসমূহ:
-
আন্তর্জাতিক ইমেজ: আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ওঠা ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ বা ‘আধিপত্যবাদী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া নেতৃত্ব।
-
অনন্য পরিচয়: মার্কিন রক্ষণশীল আন্দোলনের সঙ্গে আরএসএস-এর তুলনা উড়িয়ে দিয়ে হোসাবলে বলেন, “আকাশের তুলনা কেবল আকাশের সঙ্গেই চলে।”
-
কূটনৈতিক তৎপরতা: ভারত সরকারের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে হোসালের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এডিটরস নোট:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫-২৬ সালের শতবার্ষিকী উৎসবকে সামনে রেখে আরএসএস বিশ্বজুড়ে তাদের ‘সফট পাওয়ার’ প্রদর্শনের যে কৌশল নিয়েছে, এটি তারই অংশ। বিদেশের মাটিতে এই জনসংযোগ ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।