হিন্দু বিয়েতে মুসলিম বেশে শ্বশুর! সাতপাক থামিয়ে দিল কনের বাড়ি, তারপর যা ঘটল…

উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে একটি বিয়ের আসরে যা ঘটল, তা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। বিয়ের সানাই বাজছিল, মণ্ডপে বসেছিলেন বর-কনে। কিন্তু ঠিক সাতপাকের আগে বরের বাবার এক বিশেষ ‘লুক’ দেখে থমকে গেল গোটা অনুষ্ঠান। পরিস্থিতি এমন চরমে পৌঁছাল যে, মাঝরাতেই মণ্ডপে ডাকতে হলো পুলিশ!
মণ্ডপে ‘পাঠানি’ বেশধারী শ্বশুর, তুঙ্গে উত্তেজনা
ঘটনাটি ঘটে নাগিনা এলাকার কৃষ্ণ ব্যাঙ্কোয়েট হলে। নজিবাবাদের মহাপুর গ্রামের যুবক অঙ্কুর চৌহানের সঙ্গে নাগিনার পাখানপুরের তরুণী সাক্ষীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। রাত ৩টে নাগাদ যখন বিয়ের মূল আচার শুরু হতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই মণ্ডপে প্রবেশ করেন বরের বাবা অনিল চৌহান।
লম্বা দাড়ি, পরনে পাঠান স্যুট এবং মাথায় পাঠান পাগড়ি—অনিল চৌহানের এই অদ্ভুত সাজ দেখেই আঁতকে ওঠেন কনে পক্ষের আত্মীয়রা। কনে পক্ষ অভিযোগ তোলে, এই সাজ একজন নিষ্ঠাবান মুসলিমের পরিচয় বহন করে। হিন্দু রীতিতে বিয়ে চলাকালীন বরের বাবার এমন বেশভূষা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা এবং তৎক্ষণাৎ বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খুলে গেল ২৫ বছরের পুরনো রহস্যের জট
তীব্র বাদানুবাদের মধ্যে বরের বাবা অনিল চৌহান এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর আগেই তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। যদিও পরিবারের অন্য সদস্যরা হিন্দু ধর্ম পালন করেন, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত জীবনে মসজিদে যাতায়াত করেন এবং ইসলামিক রীতিনীতি মেনে চলেন। সামাজিক ভয়ে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু বিয়ের শুভ মুহূর্তে তিনি নিজের আসল পরিচয়েই উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কনে পক্ষের অনেকে মণ্ডপ ছেড়ে চলে যান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাগিনা থানার পুলিশ। ভোর ৩টে থেকে সকাল পর্যন্ত চলে দফায় দফায় বৈঠক। শেষে বর অঙ্কুর চৌহান গ্যারান্টি দেন যে, তার বাবা ইসলাম ধর্মী হলেও পরিবারের বাকিরা এবং কনে আজীবন হিন্দু ধর্মই পালন করবেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় অবশেষে ১০ ঘণ্টা পর, শুক্রবার সকাল ১০টায় সম্পন্ন হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।
স্টেশন হাউস অফিসার অবনীত মান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মিটিয়ে নিয়েছে এবং পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা উত্তরপ্রদেশে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।