“২৭ বছরের পুরনো পাসওয়ার্ডও হ্যাক করবে এই AI?”-কেন সাইবার আতঙ্কে কাঁপছে দুনিয়া?

বৃহস্পতিবার দেশের বড় বড় ব্যাঙ্কের প্রধানদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল Anthropic-এর তৈরি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী AI মডেল ‘ক্লড মিথোস’ (Claude Mythos)। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে তৈরি হতে পারে ভয়াবহ সাইবার ঝুঁকি—এমনই আশঙ্কায় নড়েচড়ে বসেছে অর্থ মন্ত্রক। বৈঠকে আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও উপস্থিত ছিলেন।
Claude Mythos কী এবং কেন এটি এত ভয়ঙ্কর?
ক্লড মিথোস হলো Anthropic-এর তৈরি সবথেকে অ্যাডভান্সড AI মডেল। এর ক্ষমতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে:
-
অদৃশ্য ত্রুটি শনাক্তকরণ: এই মডেল এমন হাজার হাজার নিরাপত্তা ত্রুটি (Security Flaws) খুঁজে বের করতে সক্ষম, যা মানুষের চোখে কোনোদিন ধরা পড়েনি। এমনকি ২৭ বছরের পুরনো সফটওয়্যার দুর্বলতাও এটি ধরে ফেলেছে।
-
ডিজিটাল হাতিয়ার: এটি সাধারণ মানুষের হাতে যাওয়া মানেই হলো যেকোনো আনাড়ি ব্যক্তির হাতেও ‘অ্যাডভান্সড হ্যাকিং ক্ষমতা’ চলে আসা। অর্থাৎ, কোনো কোডিং জ্ঞান ছাড়াই যে কেউ বড় মাপের সাইবার হামলা চালাতে পারবে।
সীমিত অ্যাক্সেস ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন
বিপজ্জনক ক্ষমতার কারণে Anthropic এই মডেলটির অ্যাক্সেস মাত্র ৪০টি বড় সংস্থার (যেমন: Amazon, Microsoft, Google) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। তবে উদ্বেগ বাড়িয়ে কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অনিবন্ধিত ব্যবহারকারীরাও এই মডেলের নাগালে পৌঁছে গেছে। যা ভারতসহ সারা বিশ্বের ব্যাঙ্কিং সেক্টরকে গভীর ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি
ক্লড মিথোস ব্যবহার করে যে কেউ যাতে ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে না পারে, তার জন্য সরকার বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে:
-
ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং: ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম থ্রেট ইন্টেলিজেন্স শেয়ার করার জন্য শক্তিশালী ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
-
সতর্কতা ও প্রস্তুতি: ভারতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In)-এর সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
আরবিআই-এর সমীক্ষা: বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং অর্থ মন্ত্রক যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে যে, এই AI মডেল ভারতীয় আর্থিক কাঠামোয় কতটা ধস নামাতে পারে।
আমেরিকার হোয়াইট হাউস থেকে ভারতের অর্থ মন্ত্রক—সর্বত্রই এখন একটাই লক্ষ্য, ক্লড মিথোসের মতো প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানত রক্ষা করা।