সমুদ্রের অতল থেকেও কাঁপবে চীন-পাকিস্তান! জার্মানির সাথে ভারতের ৬৭,০০০ কোটির মেগা সাবমেরিন চুক্তি চূড়ান্ত

ভারত মহাসাগরে লাল ফৌজের দাদাগিরি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় নৌবাহিনী। জার্মানির সঙ্গে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি) মূল্যের এক ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সফরের পরই জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই চুক্তি নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

প্রজেক্ট ৭৫(আই): কী থাকছে এই মেগা চুক্তিতে?
এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে জার্মান কোম্পানি টিকেএমএস (TKMS) এবং ভারতের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এর যৌথ উদ্যোগে। এর অধীনে ভারত ৬টি অত্যন্ত আধুনিক ডিজেল-ইলেক্ট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন পাবে। সবথেকে বড় খবর হলো, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় এই ঘাতক সাবমেরিনগুলো ভারতেই তৈরি হবে।

কেন এই সাবমেরিন শত্রুপক্ষের জন্য ত্রাস?
জার্মানির টাইপ-২১৪ নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সাবমেরিনগুলোতে থাকছে অত্যাধুনিক সব ফিচার:

এআইপি প্রযুক্তি (AIP Technology): এর ফলে সাবমেরিনগুলো দীর্ঘ সময় জলের নিচে ডুবে থাকতে পারবে। বারবার উপরে আসার প্রয়োজন না থাকায় শত্রুর চোখে ধরা পড়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

নিঃশব্দ ঘাতক: এগুলোর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে তা খুব কম শব্দ করবে, ফলে শত্রুর সোনার বা রাডার একে খুঁজে পাবে না।

ভয়ঙ্কর অস্ত্রশস্ত্র: উন্নত সেন্সর এবং সোনারের পাশাপাশি সাবমেরিনগুলো টর্পেডো ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত থাকবে।

চীন ও পাকিস্তানের মাথাব্যথার কারণ:
বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে থাকা সাবমেরিনগুলোর বয়স ২৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে চীনের নৌবহর ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভারত মহাসাগরে ভারতের শক্তি এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যাবে। এটি পাকিস্তান ও চীন— উভয়ের জন্যই বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আত্মনির্ভর ভারত:
চুক্তি অনুযায়ী, এই সাবমেরিনগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েক হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত আলোচনা এবং আন্তঃসরকার চুক্তি (IGA) সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (CCS) চূড়ান্ত সিলমোহরের অপেক্ষা। ২০২৬-এর মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে দুই দেশ।