১ টন নাকি ১.৫ টন? বাড়িতে AC কেনার আগে মিলিয়ে নিন এই সহজ হিসেব

তীব্র দাবদাহে এক চিলতে স্বস্তির খোঁজে এখন ঘরে ঘরে এসির চাহিদা তুঙ্গে। কিন্তু বাজারের শত শত ব্র্যান্ড আর হাজারো ফিচারের ভিড়ে সঠিক এসিটি বেছে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ। ভুল এসি কিনলে যেমন ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না, তেমনি মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের ধাক্কায় কপালে ভাঁজ পড়ে। জেনে নিন নতুন এসি কেনার আগে কোন বিষয়গুলো আপনার জানা জরুরি।

১. ঘরের আকার অনুযায়ী ‘টন’ নির্বাচন

এসি কত টনের হবে, তা নির্ভর করে আপনার ঘরের আয়তনের ওপর। ঘরের তুলনায় কম টনের এসি নিলে ঘর ঠান্ডা হবে না, আবার বেশি টনের এসি নিলে বিদ্যুৎ অপচয় হবে।

  • ১০০-১২০ বর্গফুট: ১ টন এসি যথেষ্ট।

  • ১২০-১৮০ বর্গফুট: ১.৫ টন এসি নিন।

  • ১৮০-২৫০ বর্গফুট: ২ টনের এসি উপযুক্ত।

২. ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার?

বর্তমানে ইনভার্টার এসি সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর কারণ হলো:

  • এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে (কমবেশি ৩০-৫০%)।

  • ঘরের তাপমাত্রা স্থির রাখে।

  • শব্দ অনেক কম হয়। অন্যদিকে, নন-ইনভার্টার এসির দাম কিছুটা কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের খরচ বাড়িয়ে দেয়।

৩. এনার্জি রেটিং বা স্টার রেটিং

এসি কেনার সময় গায়ে থাকা স্টিকারটি ভালো করে দেখুন। ৪ বা ৫ স্টার রেটিং দেওয়া এসিগুলো সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ টানে। সাশ্রয়ী হতে চাইলে সবসময় বেশি স্টার রেটিংয়ের দিকে ঝুঁকুন।

৪. স্প্লিট বনাম উইন্ডো এসি

  • স্প্লিট এসি: দেখতে আধুনিক, শব্দহীন এবং ঘরের যেকোনো দেওয়ালে লাগানো যায়। ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে এটি সেরা।

  • উইন্ডো এসি: দাম কিছুটা কম এবং ছোট ঘরের জন্য ভালো। তবে এটি লাগানোর জন্য জানলা বা দেওয়াল কাটার প্রয়োজন হয়।

৫. আধুনিক ফিচার ও ব্র্যান্ড

এখনকার এসিতে টার্বো কুলিং, স্লিপ মোড, এয়ার পিউরিফিকেশন এবং ওয়াইফাই কন্ট্রোল-এর মতো স্মার্ট সুবিধা থাকে। আপনার বাজেট অনুযায়ী একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নিন। মনে রাখবেন, সস্তা এসির পেছনে ছুটলে পরবর্তীতে সার্ভিসিং বা পার্টস পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।

প্রো-টিপ: আপনার ঘরে যদি সরাসরি বিকেলের রোদ পড়ে, তবে নির্ধারিত টনের চেয়ে একটু বেশি ক্ষমতার এসি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সঠিক ইনস্টলেশন এসির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে, তাই দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি বসান।