AI-মডেল ঘিরে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি, ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্ক করে দিলেন অর্থমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কের প্রধানদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল Anthropic-এর তৈরি সবথেকে শক্তিশালী AI মডেল ‘ক্লড মিথোস’ (Claude Mythos)। এই কৃত্রিম মেধা ভারতের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড়সড় সাইবার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দিল্লি।
কী এই ‘Claude Mythos’? কেন এত আতঙ্ক?
ক্লড মিথোস হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত AI মডেল, যা বিশেষভাবে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষণের জন্য তৈরি। এর ক্ষমতা এতটাই যে:
-
এটি এমন হাজার হাজার নিরাপত্তা ত্রুটি (Security Flaws) খুঁজে বের করেছে যা মানুষের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল।
-
এমনকি ২৭ বছর পুরনো ডিজিটাল দুর্বলতাও এই AI নিমেষেই ধরে ফেলতে সক্ষম।
-
অ্যানথ্রোপিক-এর দাবি, এই মডেল ভুল হাতে পড়লে ‘সাধারণ মানুষকে উন্নত হ্যাকার’ বানিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সীমিত অ্যাক্সেস ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন
বিপজ্জনক ক্ষমতার কারণে এই মডেলের অ্যাক্সেস আমাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগল-এর মতো মাত্র ৪০টি সংস্থায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু অননুমোদিত ব্যবহারকারী ইতিমধেই এই মডেলের নাগাল পেয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাঙ্কিং সিস্টেম বা বড় কর্পোরেট সংস্থায় সাইবার হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ভারতের প্রস্তুতি ও অর্থমন্ত্রীর বার্তা
বৈঠকে উপস্থিত আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ সাফ জানিয়েছেন, এই হুমকির মোকাবিলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গভীর সমন্বয় প্রয়োজন।
-
হাই-লেভেল অ্যালার্ট: ব্যাঙ্কগুলিকে রিয়েল-টাইম থ্রেট ইন্টেলিজেন্স শেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক: ভারত সরকার একটি শক্তিশালী আইনি ও প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করছে যাতে এই AI-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
-
RBI-এর সমীক্ষা: বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং অর্থ মন্ত্রক যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে ভারতীয় আর্থিক পরিকাঠামোয় এই মডেল কতটা ক্ষতি করতে পারে।
শুধু ভারত নয়, আমেরিকা ও ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাঙ্কগুলোও এই প্রযুক্তি নিয়ে বর্তমানে রাতের ঘুম হারিয়েছে। হোয়াইট হাউস নিজেদের সাইবার দেওয়াল শক্ত করতে এখন এই প্রযুক্তিকেই কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।