ভোটের ৩ দিন আগে বাইক বন্ধ কেন? হাইকোর্টে নজিরবিহীন সওয়াল কমিশনের, বিপাকে সাধারণ মানুষ!

লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজতেই বাংলায় বাইক চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে চলল টানটান সওয়াল-জবাব। একদিকে কমিশনের দাবি— অপরাধ রুখতে বাইক বন্ধ জরুরি, অন্যদিকে আদালতের প্রশ্ন— সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কার্ড পাবেন কোথায়?
কেন বাইক নিষিদ্ধ? কমিশনের বিস্ফোরক যুক্তি:
এদিন মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে একাধিক চাঞ্চল্যকর যুক্তি খাড়া করেন। তাঁর প্রধান বক্তব্যগুলি হলো:
হুমকির অভিযোগ: বাইকে চড়ে এসে ভোটারদের ভয় দেখানোর ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়ছে।
পালানো সহজ: অপরাধ করার পর অলিগলি দিয়ে বাইকে করে চম্পট দেওয়া অত্যন্ত সহজ, যা বড় গাড়ির ক্ষেত্রে অসম্ভব।
পিছনের আরোহীই বিপজ্জনক: কমিশনের দাবি, বাইকের পিছনে বসা ব্যক্তিই সাধারণত অপরাধের মূল কারিগর।
নাকা তল্লাশি: বাইক নিয়ে নাকা চেকিং এড়িয়ে যাওয়া অনেক বেশি সুবিধাজনক।
“আইডি কার্ড কোথায় পাবেন শ্রমিকরা?” বিচারপতির কড়া প্রশ্ন:
কমিশন জানায়, অফিস যাত্রী বা জরুরি প্রয়োজনে যারা বেরোচ্ছেন তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণা রাও পালটা প্রশ্ন করেন, “যাঁরা সাধারণ মজদুর বা শ্রমিক, তাঁদের তো আইডি কার্ড নেই। তাঁরা কী করবেন?” বিচারপতি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের দিন কড়াকড়ি স্বাভাবিক, কিন্তু এত আগে থেকে কেন এই হয়রানি? পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না?
পালটা রাজ্যের আক্রমণ:
রাজ্যের তরফে কমিশনের এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীদের দাবি, “আইনের ঠিক কোন ধারায় বাইক নিষিদ্ধ করা হলো, তা কমিশন স্পষ্ট করতে পারেনি।” এমনকি মাদ্রাজ ও গুজরাট হাইকোর্টও অতীতে কমিশনের এই ধরণের নির্দেশিকা খারিজ করে দিয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।
কমিশনের সাফাই:
কমিশনের আর এক আইনজীবী ডিএস নাইডু সাফ জানান, বাংলার ভোটের হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপ। তবে রাজ্য সহযোগিতা না করলে এই নিয়ম লাগু করা অসম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেষ কথা:
মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষ হলেও বিচারপতি এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দেননি। এখন দেখার, হাইকোর্ট কি কমিশনের এই ‘বক্স অফিস’ সিদ্ধান্তকে সবুজ সংকেত দেয়, নাকি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাইক চলাচলে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেয়।