‘আমাকে কি একাই খুঁজেছ তুমি?’ বিয়ের বিশেষ দিনে স্ত্রীকে নিয়ে কেন এমন আবেগঘন ঋত্বিক চক্রবর্তী?

তারিখটা ছিল ২৪শে এপ্রিল, ২০১১। আইনি মতে সই-সাবুদ করে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন টলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং গুণী অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষ। আজ, ২০২৬-এর ২৪শে এপ্রিল তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ১৫টি বসন্ত পূর্ণ হলো। বড় পর্দা বা ওটিটি— ঋত্বিকের অভিনয় যেখানে দর্শকদের কাছে ম্যাজিক, সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আসল ‘ম্যাজিশিয়ান’ যে অপরাজিতাই, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন অভিনেতা।

ঋত্বিকের কলমে ঝরল প্রেম
বিশেষ এই দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন ঋত্বিক। অত্যন্ত কাব্যিক ভাষায় তিনি লিখেছেন—

“দশক শতক ধরে ধরে ঘরে পথে লোকালয়ে স্রোতে জনস্রোতে আমাকে কি একাই খুঁজেছ তুমি? আমি বুঝি তোমাকে খুঁজিনি!” এই কটি লাইনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁদের দীর্ঘ পথচলা এবং একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের গল্প। নেটিজেনরা বলছেন, পর্দার ঋত্বিকের মতোই বাস্তব জীবনের ঋত্বিকও বড্ড রোমান্টিক।

শুটিং সেট থেকে শুরু সেই রূপকথা
ঋত্বিক ও অপরাজিতার প্রেমের শুরুটা হয়েছিল অঞ্জন দত্তর একটি কালজয়ী ধারাবাহিকের সেটে। সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়েই একে অপরের অভিনয়ের প্রেমে পড়েন তারা। তখন ঋত্বিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পায়ের তলার মাটি খুঁজছেন। কিন্তু স্ট্রাগল পিরিয়ডেও অপরাজিতা ছিলেন তাঁর ছায়ার মতো। বেশ কয়েক বছরের গোপন সম্পর্কের পর ২০১১ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

গ্ল্যামারের চাকচিক্যে এক শান্ত দ্বীপ
টলিপাড়ায় যখন ব্রেক-আপ আর ডিভোর্সের খবর রোজকার ঘটনা, সেখানে ঋত্বিক-অপরাজিতা যেন এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ক্যারিয়ারে দুজনেই ব্যস্ত, সফল। কিন্তু বাড়ির চৌকাঠে পা রাখলেই তাঁরা স্রেফ বন্ধু। এই দম্পতির কোল আলো করে আছে তাঁদের ছোট্ট রাজপুত্র— উপমন্যু।

১৫ বছর পরেও তাঁদের রসায়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের জন্য বড়সড় ‘রিলেশনশিপ গোল’ সেট করে দিল। টলিউডের এই প্রিয় জুটিকে শুভকামনায় ভরিয়ে দিয়েছেন দুই তারকার সতীর্থ ও অনুরাগীরা।