“বাংলা এবার পরিবর্তন দেখবে!” পানিহাটির সভা থেকে তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’ খতমের ডাক মোদীর

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে পানিহাটির ময়দান থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে দীর্ঘদিনের অপশাসনের অবসান হতে চলেছে এবং বিজেপির বিজয়ের ঘণ্টা ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে।

“পরিবর্তনের ঝড়ে সিলমোহর পড়েছে”
শুক্রবার পানিহাটির জনসভা থেকে মোদী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে রাজ্যে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, গতকালের জনসমর্থন তাতেই নিশ্চিত সিলমোহর দিয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের লক্ষ্য যে সরাসরি শাসক শিবিরের দিকে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাঁর দাবি, রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল, তা এখন পরিবর্তনের ডাক হিসেবে আছড়ে পড়ছে।

তৃণমূলের সমালোচনায় আক্রমণাত্মক মোদী
রাজ্যের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী এদিন একাধিক ইস্যুতে তোপ দাগেন:

দুর্নীতি ও প্রশাসন: প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ তিতিবিরক্ত।

আইনশৃঙ্খলা: রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মানুষ এখন আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব নিরাপত্তা চায়।

জনতার রায়: পানিহাটির ভিড়কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করছে যে মানুষ এবার স্বচ্ছ প্রশাসন চায়।

ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ‘মাস্টারপ্ল্যান’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে উন্নয়নের নতুন জোয়ার আসবে। তাঁর দেওয়া প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:

শিল্প ও কর্মসংস্থান: নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যে কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে।

নারী সুরক্ষা: মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় মডেল: কেন্দ্রের সফল প্রকল্পগুলোকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচনের দামামা বাজার পর মোদীর এই পানিহাটি সফর যে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন ৪ মে-র ফলাফলই বলবে, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বিজয় সংকল্প’ কতটা বাস্তবায়িত হয়।