হোয়াইট হাউসের মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল ২ বছরের শিশু! ট্রাম্পের সামনেই খুদে ট্র্যাভিসের কাণ্ড দেখে চোখে জল নেটিজেনদের

হোয়াইট হাউসের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে তখন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে। রাজনীতির কূটকচাল আর তেলের দাম নিয়ে আলোচনার মাঝেই সবার নজর কেড়ে নিল দুই বছরের এক শিশু। নাম তার ট্র্যাভিস স্মিথ। প্রেসিডেন্টের সামনেই মেঝেতে হামাগুড়ি দিয়ে, কার্পেটে উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের খেলায় মত্ত ট্র্যাভিস যেন এক মুহূর্তেই বদলে দিল পুরো কক্ষের পরিবেশ। তবে এই নিষ্পাপ হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প।
জন্ম থেকেই ছিল নিস্তব্ধ পৃথিবী
ট্র্যাভিসের মা সিয়েরা স্মিথ জানান, জন্মের পর থেকেই তাঁর ছেলে ছিল সম্পূর্ণ বধির। মা শিয়রে বসে শতবার ডাকলেও ট্র্যাভিস সাড়া দিত না। এমনকি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বললেও ছেলের অভিব্যক্তিতে কোনো পরিবর্তন আসত না। সিয়েরা আক্ষেপ করে বলেন, “সে নিজের নাম পর্যন্ত জানত না।”
বিজ্ঞানের জাদুতে ফিরে এল শব্দ
ট্র্যাভিসের জীবন বদলে দিল রিজেনারন (Regeneron)-এর একটি নতুন ‘জিন থেরাপি’। এফডিএ (FDA) অনুমোদিত এই আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি করা হয় জটিল অস্ত্রোপচার। আর তাতেই ঘটে মিরাকল! ধীরে ধীরে শব্দ শুনতে শুরু করে ট্র্যাভিস। সিয়েরা আবেগপ্লুত হয়ে জানান, যে ছেলে কোনোদিন শব্দ শোনেনি, সে এখন গান শুনলে নাচতে শুরু করে।
ট্রাম্পের মুগ্ধতা ও ট্র্যাভিসের খুনসুটি
অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ট্র্যাভিস ও তার মায়ের সাথে কথা বলেন। শিশুটি এখন সত্যিই শুনতে পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ট্র্যাভিসের সাহসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য… কী সুন্দর একটি ছেলে!”
এদিকে আলোচনার মাঝেই ট্র্যাভিস নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিচ্ছিল। কখনও মায়ের কোলে হাসাহাসি, আবার কখনও হোয়াইট হাউসের কার্পেটে শুয়ে পড়া—তার এই চঞ্চলতা উপস্থিত সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিকতা
মূলত ওষুধের দাম এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো নিয়ে আলোচনার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রিজেনারন কোম্পানি ওষুধের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের সাথে একটি চুক্তিতেও পৌঁছেছে। ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার মাঝেও এই অনুষ্ঠানে ট্র্যাভিসের সুস্থ হয়ে ওঠার গল্পটি এক চিলতে শান্তির পরশ নিয়ে আসে।