ভোট মিটতেই সংখ্যার পাহাড়! ১২৫-এর দাবি শুভেন্দুর, খাতা খুলবে না তৃণমূল? বিস্ফোরক মোদী

বাংলার রাজনীতির প্রথম দফার মহারণ শেষ। ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই এখন শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর সংখ্যার খেলা। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। একদিকে যখন শুভেন্দু অধিকারী বড় ব্যবধানে জয়ের দাবি করছেন, ঠিক তখনই পাল্টা খোঁচায় বিজেপিকে উড়িয়ে দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বাংলার ভাগ্য আসলে কার দিকে? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।
দাবি ও পাল্টা দাবির লড়াই: কার ঝুলিতে কটি আসন?
ভোট চলাকালীনই জয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন হেভিওয়েট নেতারা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কে কী দাবি করছেন:
শুভেন্দু অধিকারী: বিজেপির এই দাপুটে নেতার দাবি, ১৫২টি আসনের মধ্যে ন্যূনতম ১২৫টি আসন পাবে বিজেপি।
কুণাল ঘোষ: পাল্লা ভারী রেখে কুণাল বলছেন, ১৩২ থেকে ১৩৫টি আসন যাচ্ছে তৃণমূলের ঘরে।
অনুব্রত মণ্ডল: নিজের স্টাইলে অনুব্রত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল ২৩০টি আসন পাবে এবং বিজেপি ১০০-এর গণ্ডিও পেরোতে পারবে না।
মোদীর ‘পরিবর্তন’ বনাম মমতার ‘ইভিএম’
মথুরাপুর ও বলাগড়ের সভা থেকে সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মোদীর দাবি, “অনেক জেলায় তৃণমূলের খাতা পর্যন্ত খুলবে না। বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন যে ৪ মে শুধু ফলপ্রকাশ নয়, পরিবর্তন হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিশেষ করে মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট বলে দিচ্ছে ‘ভয়’ হারছে আর ‘ভরসা’র জয় হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী যখন পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন, তখন পাল্টাতে দেরি করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদীর আত্মবিশ্বাসকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন:
“তার মানে কি আপনি ইভিএম-এ সব ফিট করে রেখে দিয়েছেন? ভোটের বাক্স খুললেই দেখবেন, বিজেপি জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে!”
রেকর্ড ভোট: ভয়ের ওপর ভরসার জয়?
এবারের প্রথম দফার ভোটে বাংলার রেকর্ড ভোটদান নিয়ে আশাবাদী পদ্ম শিবির। মোদীর মতে, নতুন ভোটাররা তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলার সংকল্প নিয়েছেন। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষ মমতার উন্নয়ন দেখেই ভোট দিয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতির এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ ড্রামা এখন তুঙ্গে। নেতাদের এই সংখ্যার লড়াই কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ নাকি জনমতের আসল প্রতিফলন? সব জল্পনার অবসান হবে আগামী ৪ মে, যখন ইভিএম বলবে আসল সত্যিটা।