শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ! ৪৮,০০০ কোটি টাকা তুলে নিল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, ডুবছে কোন কোন খাত?

ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) শেয়ার বিক্রির তাণ্ডব থামার লক্ষণ নেই। এপ্রিলের প্রথম পাক্ষিক শেষ হতে না হতেই বাজার থেকে প্রায় ৪৮,১৪১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বিদেশি লগ্নিকারীরা। বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং এআই (AI) বিপ্লবে পিছিয়ে থাকায় ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে।
কোন খাতে কত ক্ষতি? একনজরে পরিসংখ্যান
ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি লিমিটেড (NSDL)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি অর্থ তুলে নিয়েছে আর্থিক পরিষেবা খাত থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ১৯,১৫২ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলো হলো:
ভোক্তা পরিষেবা: ৫,৩৩৬ কোটি টাকা
স্বাস্থ্য পরিষেবা: ৪,৪৮১ কোটি টাকা
অটোমোবাইল: ৩,৭০৪ কোটি টাকা
তেল ও গ্যাস: ৩,৩৫২ কোটি টাকা
আইটি ও টেলিকম: ৩,৮১৭ কোটি টাকা (সম্মিলিত)
অন্যদিকে, বাজারের এই মন্দার মাঝেও বিদ্যুৎ (৬০১ কোটি টাকা) এবং ইউটিলিটিস খাতে সামান্য কিছু বিনিয়োগ দেখা গেছে, যা বাছাইকৃত ক্রয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন ভারত থেকে মুখ ফেরাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণ-বিক্রির পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
১. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা।
২. টাকার মানের পতন: ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ক্রমাগত দরপতন বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করছে।
৩. এআই (AI) দৌড়ে পিছিয়ে থাকা: দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো বাজারগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: এটি কি বিনিয়োগের সঠিক সময়?
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ডঃ ভিকে বিজয়াকুমার জানান, “এফপিআই-দের কাছে সবচেয়ে বেশি লিকুইড বা সহজে বিক্রয়যোগ্য সম্পদ হলো আর্থিক খাতের স্টক। তাই বিক্রির চাপ বাড়লে প্রথমেই এই খাতে প্রভাব পড়ে। তবে ব্যাপক বিক্রির ফলে ব্যাংক শেয়ারের দাম এখন আকর্ষণীয় পর্যায়ে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভালো সুযোগ হতে পারে।”
অন্যদিকে, কোটাক সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি রিসার্চ হেড শ্রীকান্ত চৌহান মনে করেন, ভারতের রপ্তানি কমে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে আগামী দিনেও এফপিআই প্রবাহ অস্থির থাকতে পারে। বাজারের পরবর্তী গতিবিধি অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কোম্পানিগুলোর চতুর্থ ত্রৈমাসিকের (Q4FY26) ফলাফলের ওপর।