২৭ না কি ২৮ এপ্রিল? ২০২৬ সালে মোহিনী একাদশী কবে? জেনে নিন সঠিক তারিখ ও অমৃত কলশ রক্ষার সেই রোমাঞ্চকর কাহিনী!

হিন্দু ধর্মে প্রতিটি একাদশীর আলাদা গুরুত্ব থাকলেও, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের ‘মোহিনী একাদশী’ অত্যন্ত বিশেষ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই তিথিতেই ভগবান বিষ্ণু অমৃত কলশ রক্ষা করতে বিশ্বভুবন ভোলানো রূপ ধারণ করেছিলেন। ২০২৬ সালে এই পুণ্য তিথি কবে এবং কেন এই ব্রত পালন করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

মোহিনী একাদশী ২০২৬: তারিখ ও শুভ সময়
পঞ্জিকা ও উদয় তিথি গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোহিনী একাদশী পালিত হবে ২৭ এপ্রিল, সোমবার।

একাদশী তিথি শুরু: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, সন্ধ্যা ০৬:০৬ মিনিটে।

একাদশী তিথি সমাপ্ত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, সন্ধ্যা ০৬:১৫ মিনিটে।

যেহেতু ২৭ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সময় একাদশী তিথি বিদ্যমান, তাই শাস্ত্র মতে ওই দিনই ব্রত পালন করা হবে।

বিষ্ণুর ‘মোহিনী’ অবতারের রোমাঞ্চকর ইতিহাস
সমুদ্র মন্থনের সময় যখন অমৃতের পাত্র উঠে আসে, তখন তা নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে প্রবল যুদ্ধ শুরু হয়। অসুররা অমৃত পান করে অমর হয়ে দেবতাদের পরাজিত করতে চেয়েছিল। ধর্ম ও সৃষ্টি রক্ষার্থে ভগবান বিষ্ণু এক পরমাসুন্দরী নারীর রূপ ধরেন, যা ‘মোহিনী অবতার’ নামে পরিচিত। মোহিনী তাঁর মায়াবী রূপ ও বুদ্ধি দিয়ে অসুরদের মোহাচ্ছন্ন করে ফেলেন এবং কৌশলে দেবতাদের অমৃত পান করান। এই বিশেষ দিনটিকেই স্মরণে রেখে মোহিনী একাদশী পালন করা হয়।

পুজো বিধি ও নিয়ম:
১. শুদ্ধি: সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে হলুদ পোশাক পরুন।
২. সংকল্প: শ্রীহরির সামনে উপবাসের সংকল্প নিন।
৩. উপচার: হলুদ কাপড় বিছিয়ে বিষ্ণুর মূর্তিতে হলুদ ফুল, পঞ্চামৃত ও তুলসী পাতা অর্পণ করুন।
৪. মন্ত্র: ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে “ওঁ জয় জগদীশ হরে” মন্ত্র জপ করুন এবং ব্রতকথা পড়ুন।
৫. পারন: পরের দিন অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে শুভ সময়ে ব্রত ভঙ্গ করুন।

কেন করবেন এই ব্রত?
শাস্ত্রমতে, যারা ভক্তিভরে এই একাদশী পালন করেন, তাঁদের কয়েক জন্মের পাপ ধুয়ে যায়। জাগতিক মোহ-মায়া এবং আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে এই ব্রত অদ্বিতীয়। বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত পালনকারী মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠ ধামে স্থান পান।