“লাইনে দাঁড়িয়ে জবাব দিন!” নোটবন্দি থেকে গ্যাসের দাম, মোদি সরকারকে অলআউট অ্যাটাক তৃণমূল সেনাপতির

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই রণক্ষেত্রের ময়দান থেকেই এবার ‘প্রতিশোধ’-এর ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ভাতারের আলিনগর স্টেডিয়ামের জনসভা থেকে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এই লড়াই শুধু ভোট নয়, এটা আসলে ‘প্রতিবাদ-প্রতিরোধ এবং প্রতিশোধের ভোট’

পুরনো সন্ত্রাসের ছায়া ও বিজেপিকে তোপ: ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ারের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় অভিষেক মনে করিয়ে দেন ২০১০ সালের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা। তাঁর দাবি, একসময় যারা সিপিএমের হয়ে সন্ত্রাস চালাত, আজ তারাই ভোল বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। অভিষেক বলেন, “বিজেপিকে সমর্থন করা মানেই সেই পুরনো খুনের রাজনীতি আর সন্ত্রাসের দিনগুলোকে ফিরে আনা। আপনারা কি সেই দিনগুলো ফিরে পেতে চান?”

‘জিরো ওয়ারেন্টি’ বনাম ‘লাইফটাইম ওয়ারেন্টি’: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘গ্যারান্টি’-কে নজিরবিহীন কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “বিজেপির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্যারান্টি মানে লাইফটাইম ওয়ারেন্টি।” তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, শুধু ভাতারেই ৭৪ হাজার মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছেন এবং ১৫ হাজার মানুষের মাথার ওপর ছাদের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের টাকা ছাড়াই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কেন এই ভোট প্রতিশোধের? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, সাধারণ মানুষকে যেভাবে নোটবন্দির লাইন থেকে শুরু করে গ্যাসের লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করেছে বিজেপি সরকার, এবারের ভোট সেই অপমানের জবাব দেওয়ার সময়। তাঁর আহ্বান, “সেদিন যারা লাইনে দাঁড় করিয়েছিল, এবার ইভিএমের লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের জোড়া ফুলে বোতাম টিপে যোগ্য জবাব দিন।”

আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি ও বঞ্চনার অভিযোগ: পেট্রোল, ডিজেল থেকে শুরু করে সরষের তেল ও জিরে— সবকিছুর অগ্নিমূল্য নিয়ে সরব হন অভিষেক। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির কারণেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি সাফ জানান, তৃণমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চায়, আর বিজেপি চায় মানুষের চোখে জল। যারা বাংলার মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অপমান করে, তাদের জামানত জব্দ করার ডাক দেন তিনি।

ভাতারের সভা থেকে অভিষেকের এই ‘প্রতিশোধ’-এর বার্তা নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের পাল্লা কতটা ভারী করবে, এখন সেটাই দেখার।