মদের নেশায় ডুবে থাকতেন জাহ্নবী! শ্রীদেবী কন্যার জীবনের ‘অন্ধকার’ কাহিনী শুনে স্তব্ধ বলিউড

গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য আর রূপোলি পর্দার আলোর আড়ালে যে কত গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তার প্রমাণ দিলেন খোদ জাহ্নবী কাপুর। বলিউডের এই মুহূর্তে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়েও নিজের জীবনের এক যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন শ্রীদেবী-কন্যা। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী জানিয়েছেন, একটা সময় মদ্যপানের আসক্তি তাঁর জীবনকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
নেশাই ছিল জীবনের ‘সবচেয়ে বড় ভিলেন’: জাহ্নবীর অকপট স্বীকারোক্তি, মদ্যপান একসময় তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, “একটা সময় আমার মনে হতো মদ্যপান ছাড়া আমি হয়তো স্বাভাবিক থাকতে পারব না। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছিল।” অভিনেত্রী জানান, এই আসক্তির কারণে তিনি সবসময় এক ধরণের ঘোরের মধ্যে থাকতেন। কোনো কাজে মন দিতে পারতেন না, এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর ওপরেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল।
ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই: এই অন্ধকার জগত থেকে বেরিয়ে আসা জাহ্নবীর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তবে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে এই নেশা তাঁর শরীর, মন এবং ভবিষ্যৎ— সবকিছুকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে, তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন ঘুরে দাঁড়ানোর। জাহ্নবী বলেন, “আমি উপলব্ধি করেছিলাম এটি আমার কেরিয়ারের জন্য কতটা বিপজ্জনক। সেই মুহূর্তেই ঠিক করি আমাকে এই বিষ থেকে মুক্তি পেতেই হবে।” এই কঠিন লড়াইয়ে তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে আগলে রেখেছিলেন।
তরুণ প্রজন্মের জন্য বার্তা: নেশাকে জয় করে জাহ্নবী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুশৃঙ্খল। নিয়মিত শরীরচর্চা আর কড়া ডায়েটের মাধ্যমে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা— সাময়িক উত্তেজনার লোভে পড়ে এমন কোনো পথে পা বাড়ানো উচিত নয়, যা নিজের স্বপ্নগুলোকে শেষ করে দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহ্নবীর এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। নিজের ভুল বা দুর্বলতা লুকিয়ে না রেখে তা প্রকাশ্যে আনা এবং আসক্তিকে জয় করার এই কাহিনী বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্দার নায়িকা এবার বাস্তব জীবনের এক লড়াকু যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন।