আকাশছোঁয়া সোনা-রুপো! দিল্লিতে সোনার দাম ১.৫৭ লাখ পার, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কি পকেটে টান ফেলবে?

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহে অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার। যখনই বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারের বদলে সোনাকেই সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নেন। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও। মঙ্গলবার জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে সোনা ও রুপো— উভয়ের দামই আকাশ ছুঁয়েছে।
রেকর্ড ভাঙল সোনা ও রুপোর দর
অল ইন্ডিয়া সরাফা অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী:
-
সোনা: প্রতি ১০ গ্রাম (৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ) সোনার দাম ৩০০ টাকা বেড়ে পৌঁছেছে ১,৫৭,৩০০ টাকায়।
-
রুপো: প্রতি কেজিতে ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাম দাঁড়িয়েছে ২.৫৮ লক্ষ টাকায়।
কেন এই লাগামহীন বৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক কারণ:
-
ট্রাম্পের কড়া অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করেছেন। ফলে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
-
নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven): মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার ছেড়ে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যা আন্তর্জাতিক স্তরে দাম স্থিতিশীল রাখলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দর বাড়িয়ে দিয়েছে।
-
চাহিদার চাপ: শিল্পখাতে রুপোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রুপোর দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
বিশ্ববাজারের বিপরীত চিত্র
মজার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড এবং রুপোর দাম সামান্য কমলেও (সোনা আউন্স প্রতি ৪,৭৭৬.৮৫ ডলার), ভারতীয় বাজারে ডলারের শক্তি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে দাম উর্ধ্বমুখী। লেমন মার্কেটস ডেস্কের গবেষণা বিশ্লেষক গৌরব গার্গের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে এখনই স্বস্তি পাওয়ার আশা নেই।
ভবিষ্যৎ কী?
আগামী ২২শে এপ্রিল ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে। ইরান আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ থাকায় বাজার আরও অস্থির হতে পারে। অগমন্টের গবেষণা প্রধান রেনিশা চাইনানির মতে, জ্বালানি তেলের দাম এবং মুদ্রাস্ফীতির গতির ওপর নির্ভর করবে আগামী কয়েকদিনে সোনার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে।