“অস্তিত্ব বাঁচাতে বিজেপিকে ভোট দিন!” বামপন্থীদের সরাসরি খোলা চিঠি শমীকের, তোলপাড় যাদবপুর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার যাদবপুরের সুলেখা মোড়ে নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি আবেদন জানালেন বামপন্থী ভোটারদের প্রতি। শমীকের সাফ কথা, “যদি নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে চান, তবে এই নির্বাচনে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দিন।”

বামেদের ‘অস্তিত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন: যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, ২০১৯ সাল থেকেই রাজ্যে লড়াইটা মূলত বিজেপি বনাম তৃণমূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, “বাকি দলগুলো এখন স্রেফ দর্শক। তারা কেবল রাজনৈতিক ধারাভাষ্য দিক।” উল্লেখ্য, এই যাদবপুর কেন্দ্র থেকেই এবার বামেদের প্রার্থী হয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

সিঙ্গুর ও বুদ্ধবাবুর প্রসঙ্গ: বক্তব্যের মাঝেই সিঙ্গুরের ছায়া এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পরাজয়ের ইতিহাস টেনে আনেন শমীক। তিনি বলেন, ২০১১ সালে কেউ ভাবেনি বুদ্ধবাবু হারবেন। কিন্তু পরিবর্তনের নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে যে রাজনীতি শুরু করেছেন, তাতে রাজ্যের শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাঁর তোপ, “মমতা সিঙ্গুরে সর্ষে গাছ পুঁতে এসেছিলেন, কিন্তু মানুষ আজও সর্ষে ফুল দেখতে পেল না।”

শিল্পায়ন নিয়ে খোঁচা: বিজিবিএস (BGBS) বা বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন নিয়েও রাজ্য সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, এ রাজ্যের শিল্পপতিরাই বলছেন এখানে শিল্পের উন্নতি অসম্ভব, কারণ সব বড় কারখানা অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য: যাদবপুর এককালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অভেদ্য দুর্গ ছিল। সেই খাসতালুকে দাঁড়িয়ে বামপন্থীদের ভোট পদ্মফুলে দেওয়ার এই আহ্বান কি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ? নাকি বাম-বিরোধী ভোটকে এক ছাতার তলায় এনে তৃণমূলকে ধাক্কা দেওয়াই বিজেপির মূল লক্ষ্য? শমীকের এই মন্তব্যের পর থেকেই বাম মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।