“১০ কোটি ভিউয়ের ‘সাইড এফেক্ট’!”-মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়ে ঘুম উড়েছে বিক্রমের

ফেলুদা সিরিজের সেই বিখ্যাত চরিত্র ‘জটায়ু’র কথা মনে আছে? কুলির ওপর বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘তাং মত করো’ (বিরক্ত করো না)। ঠিক একই দশা এখন ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউয়ের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই রাতারাতি ‘সেলিব্রিটি’ হয়ে উঠেছেন তিনি। কিন্তু এই খ্যাতির বিড়ম্বনা যে এত মারাত্মক হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি বিক্রম।

ইউটিউবার-ভ্লগারদের চাপে দিশেহারা: রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়াম থেকে ফেরার পথে কলেজ মোড়ে বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ট্রেন্ডিং। ১০ কোটিরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন সেই দৃশ্য। আর তারপর থেকেই বিক্রমের দোকানে সাধারণ ক্রেতার চেয়ে ইউটিউবার, ফেসবুক ভ্লগার আর সাংবাদিকদের ভিড় বেশি। মঙ্গলবার সকাল থেকে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঝালমুড়ি মাখবেন নাকি প্রশ্নের উত্তর দেবেন— তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রম।

নতুন ‘স্ট্র্যাটেজি’: ভিডিও করুন, প্রশ্ন নয়! বিরক্তি চরমে ওঠায় বিক্রম এখন কড়া নিয়ম চালু করেছেন। ভ্লগারদের উদ্দেশে তাঁর সটান কথা, “নিজের মতো ভিডিও বানান, আমার ঝালমুড়ি বানানোর কৌশল ক্যামেরাবন্দি করুন, কিন্তু দয়া করে কোনো প্রশ্ন করবেন না।” এমনকি খ্যাতির চোটে নিজের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বিপাকে পাশের দোকানদারও: বিক্রমের এই ‘ভাইরাল’ হওয়ার ধাক্কা এসে লেগেছে পাশের মাংসের দোকানেও। সাইনবোর্ডে থাকা পাশের দোকানদার সুশান্ত গরাইয়ের নম্বরেও সারাদিন ফোন আসছে বিক্রমের খোঁজ নিতে। অচেনা নম্বর থেকে আসা বিরতিহীন কল সামলাতে সুশান্তও এখন ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। দুই বন্ধুরই এখন একটাই দশা— জটায়ুর ঢঙে বলতে ইচ্ছে করছে, ‘তাং মত করো’।

স্বাদেও সেরা বিক্রমের ঝালমুড়ি: তবে শুধু মোদী খেয়েছেন বলেই নয়, বিক্রমের হাতের ঝালমুড়ির যে আসলেও জাদু আছে, তা মানছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্লগাররাও। ঝাড়গ্রাম শালবনি থেকে আসা রাজীব মাহাতো জানালেন, “কন্টেন্ট বানাতে এসেছিলাম ঠিকই, কিন্তু খেয়ে দেখলাম— সত্যিই দারুণ স্বাদ!”

ভোটের রাজনীতির মাঝে ঝাড়গ্রামের এই সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতা এখন ইন্টারনেটের ‘সেনসেশন’। তবে জনপ্রিয়তা সামলাতে গিয়ে আপাতত তাঁর ব্যবসার চেয়ে ‘ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকতে হচ্ছে।