ইরানে ৮ মহিলার ফাঁসি রুখতে আসরে ট্রাম্প! এক পোস্টেই কাঁপছে দুনিয়া, কী লিখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে ফের একবার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়, বরং মানবিক আবেদন জানিয়ে সংবাদ শিরোনামে এলেন তিনি। ইরানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৮ মহিলার প্রাণভিক্ষা চেয়ে তেহরানকে আর্জি জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ঘটনার সূত্রপাত কী নিয়ে? সম্প্রতি আইয়াল ইয়াকোবি (Eyal Yakoby) নামে এক সমাজকর্মীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়। সেই পোস্টে দাবি করা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান খুব শীঘ্রই ৮ জন মহিলার ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ইয়াকোবি।

ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট ও কূটনীতির মোড়: বিষয়টি নজরে আসতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দীর্ঘ বার্তা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি ইরানের নেতাদের উদ্দেশে মানবিক আবেদন জানান। ট্রাম্প লেখেন:

“আপনারা যদি ওই মহিলাদের মুক্তি দেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ থাকব। দয়া করে ওই মহিলাদের কোনও ক্ষতি করবেন না। আমাদের ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সূত্রপাত হতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের কী মত? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আবেদন নিছক মানবিক নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর কূটনৈতিক সমীকরণ। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য এটি একটি ‘সাফ্ট পাওয়ার’ বা নমনীয় কূটনীতির কৌশল হতে পারে। ট্রাম্পের বার্তায় স্পষ্ট যে, তিনি এই ইস্যুটিকে দু-দেশের আগামী দিনের সুস্থ আলোচনার পরিবেশ তৈরির একটি চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন।

এখন দেখার বিষয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নজিরবিহীন আবেদনে ইরান সরকার সাড়া দেয় কি না। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক মহল এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে।