“মুখ্যমন্ত্রী হবে বাঙালিই!” ভাইপো ইস্যু তুলে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের, শোরগোল বর্ধমানে

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু। প্রচারের শেষ বেলায় পশ্চিম বর্ধমানের মাটি থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রে ফের একবার উঠে এল ‘ভাইপো’ তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘বহিরাগত’ বিতর্ক।
“বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বাঙালিই হবেন”
তৃণমূল নেত্রী বারবার অভিযোগ করেছেন, বিজেপি জিতলে রাজ্য চালাবে ‘বাইরের লোক’। এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে শাহ এদিন সাফ জানিয়ে দিলেন, “বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাংলায় পড়াশোনা করা এবং বাংলা ভাষায় কথা বলা কোনও ভূমিপুত্রই হবেন।” শাহের এই মন্তব্য আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলার এক বড় কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উত্তরাধিকার নিয়ে মমতাকে বিঁধলেন শাহ
এদিন সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মমতা দিদি স্বপ্ন দেখছেন নির্বাচনের পরই নিজের ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসিয়ে দেবেন। কিন্তু দিদি, আমি বলে যাচ্ছি আপনার এই স্বপ্ন কোনওদিন সফল হবে না। বাংলার মানুষ পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আর মেনে নেবে না।”
শাহের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন বা সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের চেয়ে নিজের পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই বেশি ব্যস্ত। পশ্চিম বর্ধমানের জনসভা থেকে শাহের এই আক্রমণ তৃণমূলের অন্দরের উত্তরাধিকার বিতর্ককে ফের উসকে দিল।
ভোটের আগে চূড়ান্ত লড়াই
আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, তার পরেই বাংলার ১৫২টি আসনে ইভিএম-এ ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের। প্রচারের শেষ দিনে শাহের এই ‘বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী’ কার্ড এবং অভিষেক ইস্যু ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। বিজেপি দাবি করছে, শাহের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ রাজ্যে ‘পরিবর্তনের’ হাওয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক পাল্টা জবাব না দিলেও, দুই শিবিরের এই কথার লড়াই যে ভোটের পারদকে সপ্তমে চড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।