বাইক চালকদের জন্য দুঃসংবাদ! ভোটের আগে কমিশনের ‘কারফিউ’ জারি, মেজাজ হারিয়ে যা বললেন মমতা

প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচন কমিশনের একটি নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতি। এবার সরাসরি আমজনতার যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ‘মোটরবাইক’-এর ওপর একাধিক বিধিনিষেধ চাপাল কমিশন। আর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মঙ্গলবার বড়বাজারের প্রচার সভা থেকে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনের নয়া ‘বাইক-নীতি’ একনজরে:
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার বাইক নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। কী কী করা যাবে না?
-
বাইক র্যালি নিষিদ্ধ: ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বাইক মিছিল বা র্যালি করা যাবে না।
-
রাতের নিষেধাজ্ঞা: ভোটের দু’দিন আগে থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনও বাইক চালানো যাবে না (জরুরি চিকিৎসা বা ঘরোয়া অনুষ্ঠান ছাড়া)।
-
সিঙ্গেল রাইডিং: দিনের বেলা (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাইক চললেও, চালক ছাড়া পিছনে অন্য কাউকে বসানো যাবে না।
“মানুষ কাজ করবে কী করে?” প্রশ্ন মমতার
কমিশনের এই নির্দেশিকাকে সাধারণ মানুষের রুটিরুজির ওপর আঘাত বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বড়বাজারের সভা থেকে তিনি বলেন, “বলছে মোটরবাইক নিয়ে যাওয়া যাবে না। মানুষ কাজ করবে কী করে? গরিব মানুষ যাতায়াত করবে কীভাবে?” কলকাতার মতো শহরে যেখানে বহু ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবী দ্রুত যাতায়াতের জন্য বাইকের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই নিয়মকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তিনি।
ধমক-চমক নিয়ে হুঁশিয়ারি
এদিন শুধু বাইক নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের রদবদল নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি দাবি করেন, “সারা দেশ থেকে সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসে ভয় দেখাচ্ছে। হিমাংশু লাল সবাইকে ধমক দিচ্ছেন। উনি জানেন না আমাকে ধমকালে-চমকালে আমি আরও গর্জাই!” বিমান আটকে রাখা থেকে শুরু করে সভার অনুমতি না দেওয়া— সব ইস্যুতেই কমিশন ও বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, “আমার সাথে লড়তে পারছ না, বলছ বাংলা দখল করবে? মনে রেখো আমিও সব মনে রাখছি।” ভোটের মুখে বাইক নিয়ে এই নয়া কড়াকড়ি আমজনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, আর সেই ক্ষোভকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন মমতা।