ভোট দিতে ভয় পাচ্ছেন? রাজভবনে খোলা হলো ‘কন্ট্রোল রুম’! সরাসরি রাজ্যপালকে জানান এই নম্বরে!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলা রাজনীতির ময়দানে ফের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজভবন। ভোটাররা যাতে কোনও ভয় বা চাপের মুখে না পড়ে অবাধে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। লোকভবনে চালু হলো ২৪x৭ নাগরিক হেল্পলাইন নম্বর।
সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ: আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগেই রাজভবনের তরফে একগুচ্ছ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। ০৩৩-২২০০-১০২২ থেকে শুরু করে শেষ চারটি ডিজিট ১০২৯ পর্যন্ত মোট সাতটি নম্বরে ফোন করে নাগরিকরা নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। মঙ্গলবার থেকেই এই পরিষেবা চালু করে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যপালের ‘পরিবর্তন’ বার্তা ও নবান্নের ক্ষোভ: সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর. এন. রবি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। দেশের আর্থিক উন্নতির খতিয়ান দিয়ে তিনি দাবি করেন, যেখানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা ও শিল্পের নিরিখে জাতীয় গড়ের নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তফশিলি সম্প্রদায়ের ওপর ‘বাহুবলী’ ও ‘সিন্ডিকেট’-এর প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাজ্যপালের মুখে বারবার ‘পরিবর্তন’ শব্দ শোনা যাওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা চ্যালেঞ্জ: রাজ্যপালের এই সক্রিয়তাকে ভালো চোখে দেখছে না শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘লাটসাহেব’ সম্বোধন করে কড়া আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বড় বাড়িতে বসে এখন প্রতিদিন হিংসা ও উস্কানিমূলক কথা বলা হচ্ছে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রাজ্য সরকারের হাতে নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। রাজভবন থেকে রাজনৈতিক এজেন্ডা চালানো হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।
পুরোনো সংঘাতের পুনরাবৃত্তি? প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বা সি. ভি. আনন্দ বোসের জমানাতেও নবান্ন-রাজভবন সংঘাত বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। এবার আর. এন. রবির এই হেল্পলাইন চালু এবং বাংলার হারানো গৌরব ফেরানোর ডাক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই রাজভবনের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তি পান এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।