“মমতা দিদিকে টাটা বাই-বাই বলার সময় এসে গিয়েছে!” সুকনার জনসভায় হুঙ্কার শাহের, নজরে গোর্খা ভোটব্যাঙ্ক

মঙ্গলবার প্রথম দফার ভোটের শেষলগ্নে উত্তরবঙ্গের পাহাড়কে পাখির চোখ করল বিজেপি। কার্শিয়াংয়ের সুকনায় এক বিশাল জনসভা থেকে গোর্খাদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “গোর্খারা দেশের সুরক্ষায় যে আত্মত্যাগ করেছে, তা দেশ কখনও ভুলবে না। এবার তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও ইতিহাস পুনরুদ্ধারের সময় এসে গিয়েছে।”
শাহের ৩টি বড় ঘোষণা:
স্থায়ী সমাধান: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আগামী ৬ মাসের মধ্যে করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গোর্খাদের অংশগ্রহণ: শাহ স্পষ্ট করেন যে, কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং গোর্খাদের সঙ্গে বসেই তাঁদের সমস্যার সমাধানসূত্র বের করা হবে।
তৃণমূলকে তোপ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শাহ বলেন, “পাহাড়ের মানুষ উন্নয়ন চায়, বঞ্চনা নয়। এবার মমতা সরকারের টাটা বাই-বাই করার সময় এসে গিয়েছে।”
পাহাড়ের রাজনীতির গুরুত্ব:
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গের এই আসনগুলিতে গোর্খা ভোট এক নির্ণায়ক শক্তি। অতীতেও পাহাড় বিজেপিকে দু’হাত উজাড় করে সমর্থন দিয়েছে। এবারও সেই সমর্থন ধরে রাখতে শাহ সরাসরি ‘গোর্খা সেন্টিমেন্ট’কে টার্গেট করেছেন। বিশেষ করে কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং দার্জিলিংয়ের ভোটারদের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করতেই এই ৬ মাসের প্রতিশ্রুতি বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তপ্ত প্রচারের শেষ দিন:
আজকের এই সভা শেষে পাহাড় থেকে নেমে সমতলে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় রোড শো করার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। একদিকে তৃণমূল যখন ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে শান দিচ্ছে, তখন শাহের এই ‘ইতিহাস পুনরুদ্ধারের’ বার্তা পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।