হাত-ঘাসের ‘লুকোচুরি’ রাজনীতি! শেষ বেলায় কেন বাংলা থেকে দূরত্ব বাড়ালেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোট যত গড়াচ্ছে, ততই রহস্যময় হয়ে উঠছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রসায়ন। একদিকে যখন দিল্লির ইন্ডিয়া ব্লকে মমতা-রাহুল সৌজন্য বিনিময় করছেন, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরীদের অবস্থা অনেকটা ‘ছেঁড়া পালের নৌকা’র মতো। শেষ মুহূর্তে প্রচারের ময়দান থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও খাড়গের রহস্যজনক দূরত্ব কি কোনো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?
বরফ গলল দিল্লিতে, কাঁটা বাড়ল বাংলায়?
একসময় বাংলায় কংগ্রেস একাই লড়ার ডাক দিয়েছিল। গত ১৪ই এপ্রিল মালদা ও মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—উভয়কেই সমানভাবে তোপ দেগেছিলেন। কিন্তু পট পরিবর্তন হয় নারী সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্নির্ধারণ ইস্যুতে। দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূলের সমর্থন পাওয়ার পরই কি সুর নরম করল কংগ্রেস? সোনিয়া গান্ধীর ফোন এবং রাহুল গান্ধীর তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানানোর পরই বাংলায় কংগ্রেসের আগ্রাসনে যেন যতি চিহ্ন পড়ে গেল।
প্রচারের ময়দানে ‘নিখোঁজ’ গান্ধী পরিবার
মজার বিষয় হলো, প্রথম দফার প্রচারের শেষ দিনে যখন প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ, তখন বাংলা থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সূত্র বলছে:
রাহুল গান্ধী এখন ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি অর্থাৎ তৃণমূলকে দুর্বল করতে চাইছেন না।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পরিকল্পিত সব প্রচারসূচি বাতিল করা হয়েছে।
মল্লিকার্জুন খাড়গে ইশতেহার প্রকাশ করলেও তাঁর আক্রমণের অভিমুখ এখন শুধুই বিজেপির দিকে।
বিপাকে অধীর: ‘বন্ধু’ যখন প্রতিপক্ষ
দিল্লির এই কৌশলগত পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি বিপাকে ফেলেছে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ নেতা এখন নিজের গড় বহরমপুরেই কোণঠাসা। একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে দিল্লির হাইকম্যান্ডের ‘নরম’ অবস্থান—সব মিলিয়ে বেশ বিচলিত অধীর। টিভি৯-এর সাক্ষাৎকারে পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করতেই তাঁর বিরক্তি ও অস্বস্তি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনী অঙ্ক: ৭৫ বনাম ২৫
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধী তাঁর গত জনসভায় ৭৫ শতাংশ আক্রমণ বিজেপির বিরুদ্ধে এবং মাত্র ২৫ শতাংশ মমতার বিরুদ্ধে শানালেও সংবাদমাধ্যম মমতার বিরোধিতাকেই বড় করে দেখিয়েছে। এই ভুল বোঝাবুঝি এড়াতেই কি তবে বাংলা থেকে আপাতত মুখ ফিরিয়ে নিল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো নির্বাচনী ডিল?
উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলে।