৩ ঘণ্টার পথ মাত্র ৪৫ মিনিটে! লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়েতে গতির তুফান, গুনতে হবে ৩ গুণ টোল!

নবাবদের শহর লখনউ থেকে শিল্পনগরী কানপুরের দূরত্ব এখন হাতের মোয়ায়। বহু প্রতীক্ষিত লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ে এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। যে যাত্রায় আগে যানজটের কবলে পড়ে তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো, এখন সেই পথ পাড়ি দেওয়া যাবে মাত্র ৪৫ মিনিটে। তবে গতির এই স্বাচ্ছন্দ্য পেতে যাত্রীদের পকেটে ভালোই টান পড়তে চলেছে।

পকেটে কোপ: টোল বাড়ছে ৩ গুণ!
নতুন এই এক্সপ্রেসওয়েতে যাতায়াত করতে হলে পুরোনো এনএইচ-২৭ (নবাবগঞ্জ টোল)-এর তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি টাকা গুনতে হবে।

গাড়ির জন্য একমুখী টোল: ২৭৫ টাকা (পুরানো পথে ছিল ৯৫ টাকা)।

২৪ ঘণ্টার ফিরতি যাত্রা: ৪১৫ টাকা।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য পুরো রুটে শিবপুর, খরগোশ, আমারসাস এবং আজাদ চৌরাহা—এই চারটি স্থানে আধুনিক টোল প্লাজা নির্মাণ করা হয়েছে।

উড়ালপথে গতির রোমাঞ্চ, বাইক চালকদের ‘নো এন্ট্রি’
৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের বিশেষত্ব হলো এর ১৮ কিলোমিটার অংশ নির্মিত হয়েছে পিলারের ওপর দিয়ে উড়ালপথে। এটি সরাসরি লখনউ আউটার রিং রোডের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় কানপুর থেকে রায়বেরেলি বা সীতাপুরগামী যাত্রীদের আর লখনউ শহরের যানজটে ফেঁসে থাকতে হবে না। তবে মনে রাখবেন, এখানে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিমি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে। বর্তমানে শুধুমাত্র গাড়ি ও ভ্যান চলাচলের অনুমতি থাকলেও, নিরাপত্তার খাতিরে বাইক চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

AI ক্যামেরার কড়া নজরদারি: ভুল করলেই বিপদ!
এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি:

৫০০ মিটার রেঞ্জ: প্রতি ১ কিলোমিটার অন্তর শক্তিশালী ক্যামেরা।

ভিআইডিএস (VIDS) প্রযুক্তি: দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হলে ১৬টি বিশেষ ক্যামেরা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠাবে।

রং সাইড নজরদারি: ভুল দিক থেকে আসা গাড়ি ধরতে ইন্টারচেঞ্জগুলোতে থাকছে ২১টি বিশেষ ক্যামেরা।

মনোপোল চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক সুবিধা
বানথ্রার কাছে ১.৩২ লক্ষ ভোল্টের হাই-ভোল্টেজ লাইন সরানো ছিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য হায়দ্রাবাদ থেকে বিশেষ মনোপোল আনিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যাত্রীদের আরামের জন্য থাকছে ফুয়েল স্টেশন, রেস্তোরাঁ এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক ট্রমা সেন্টার।

আগামী মাসেই এই এক্সপ্রেসওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। তবে সময়ের সাশ্রয় করতে স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই এই পথের কিছু অংশ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।