ভুয়ো ভোটে ‘ফুলস্টপ’! ৭২ ঘণ্টা আগেই নজিরবিহীন কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, এবার জাল ভোট দিলেই শ্রীঘর?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার রণদামামা বাজতে আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা বাকি। এই পরিস্থিতিতে জাল ভোট, ছাপ্পা বা ভুয়ো পরিচয়ে ভোট দেওয়ার মতো পুরনো আশঙ্কা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট— এক জন ভোটারের ভোট যেন অন্য কেউ দিতে না পারে।
বাড়ি বাড়ি নজরদারি, কড়া নিয়ম:
কমিশনের নির্দেশে বিএলও-রা (BLO) বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে এবার আর দায়সারাভাবে স্লিপ দেওয়া যাবে না। নিয়ম করা হয়েছে:
ভোটার বাড়িতে না থাকলে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের পরিচয়পত্র দেখেই তবে স্লিপ দেওয়া যাবে।
স্লিপ দেওয়ার পর রেজিস্টারে ভোটারের সই নেওয়া বাধ্যতামূলক।
একসাথে অনেক স্লিপ কাউকে দেওয়া যাবে না।
স্লিপ না থাকলে কড়া জেরা:
যদি কোনো ভোটার স্লিপ ছাড়া ভোট দিতে বুথে পৌঁছান, তবে তাঁকে প্রিসাইডিং অফিসারের কড়া জেরার মুখে পড়তে হবে। তাঁর পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে এবং কেন তিনি আগে স্লিপ পাননি, তার সঠিক কারণ জানাতে হবে। সামান্য সন্দেহ হলেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।
মৃত ও অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা প্রস্তুত:
কমিশন সূত্রে খবর, অনেক সময় দেখা যায় মৃত বা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামেও ভোট পড়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা রুখতে শেষ মুহূর্তে ভোটার তালিকা আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মৃত, অনুপস্থিত বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারদের একটি আলাদা তালিকা রিটার্নিং অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন এই তালিকার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে।
কেন এই সতর্কতা?
প্রথম দফার নির্বাচনের আগে যাতে কোনোভাবেই ভোট প্রক্রিয়া কলঙ্কিত না হয়, তার জন্য বিএলও-দের দেওয়া তথ্য সরাসরি প্রিসাইডিং অফিসারদের লিঙ্কে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে কোনো বুথে জালিয়াতির চেষ্টা করলেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা ধরা পড়বে।
ভোটাধিকার আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার, তাই সঠিক পরিচয় দিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন— এই বার্তাই দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।