“ভুয়ো পোস্ট করলেই অ্যাকশন!”-পশ্চিমবঙ্গ ভোটের আগে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ কমিশনের

ডিজিটাল দুনিয়ায় ভুয়ো খবরের রমরমা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কড়া আল্টিমেটাম দিল কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, কোনো বেআইনি বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট নজরে আসার ৩ ঘণ্টার মধ্যে তা ডিলিট করতে হবে।

৩ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ ও কড়া নজরদারি

কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act 2000) এবং আইটি রুলস ২০২১-এর অধীনে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করলে রেহাই মিলবে না। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইটি নোডাল অফিসাররা নজরদারি শুরু করেছেন। কমিশন সূত্রে খবর, গত ১৫ মার্চ ২০২৬-এ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ইউআরএল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেমন কনটেন্ট সরানো হয়েছে, তেমনই হয়েছে এফআইআর।

AI ভিডিওতে দিতে হবে ‘সিন্থেটিক’ তকমা

নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর অপব্যবহার রুখতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এখন থেকে:

  • কোনো কনটেন্ট যদি AI দিয়ে তৈরি বা ডিজিটালি পরিবর্তন করা হয়, তবে সেখানে স্পষ্টভাবে ‘AI Created’ বা ‘Synthetic Content’ হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

  • রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জানাতে হবে ওই কনটেন্টের আসল উৎস বা সোর্স কী।

ভোটের শেষ ৪৮ ঘণ্টা: ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট?

লোক প্রতিনিধি আইন (১৯৫১)-এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী, ভোট শেষ হওয়ার আগের ৪৮ ঘণ্টা কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার করা যাবে না। এই নিয়ম এবার সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম—কোনো মাধ্যমেই এই সময়ে প্রচারমূলক কনটেন্ট প্রদর্শন করা চলবে না।

ইভিএম নিয়ে গুজব ছড়ালেই জেল!

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোট প্রক্রিয়া বা ইভিএম নিয়ে কোনো প্রকার ভুয়ো তথ্য ছড়ালে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে আইটি আইনের ধারা অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটের আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কমিশনের এই ‘ডিজিটাল ক্লিনআপ’ অভিযান এখন আলোচনার তুঙ্গে।