“৪ মে বিজেপি আসছে, টিএমসি যাচ্ছে!” অনুরাগ ঠাকুরের রণহুঙ্কারে তপ্ত বাংলা, পাল্টা দিতে ছাড়ল না ঘাসফুল

বাংলার হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, দিল্লির হেভিওয়েট নেতাদের আক্রমণের ধার ততই বাড়ছে। সোমবার এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর জোর গলায় দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। তাঁর সাফ কথা, “বাংলার মানুষের একটাই কথা— ৪ মে বিজেপি আসছে, টিএমসি যাচ্ছে।”
অনুরাগ ঠাকুরের কড়া আক্রমণ:
অনুরাগ ঠাকুরের মতে, বাংলার মানুষ এখন দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং অনুপ্রবেশের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, “নারী, যুবক ও সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার চলছে, তা থেকে মুক্তি চায় বাংলা। এবার মমতা ব্যানার্জিকে বিদায় জানাতে মানুষ প্রস্তুত।” তাঁর এই মন্তব্য যে নির্বাচনের আগে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
মমতা কি ঘাবড়ে গিয়েছেন?
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এক কদম এগিয়ে দাবি করেছেন যে, আসন্ন পরাজয় নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এখন ‘নার্ভাস’। প্রধানের অভিযোগ, “বাংলার সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ আজ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। যুবসমাজ হতাশ, মহিলারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং কৃষকরা দুর্দশাগ্রস্ত। সনাতনী মানুষ আজ অনুপ্রবেশকারীদের চাপে ভীত। এই পরিস্থিতি দেখেই মমতা ব্যানার্জি আবোল-তাবোল বলছেন।”
এক নজরে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি মানচিত্র:
২০২৬-এর এই নির্বাচনে বাংলার গদি কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোটের তারিখ: ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল (দুই দফায়)।
ফলাফল: ৪ মে।
ম্যাজিক ফিগার: ২৯৪টি আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।
২০২১-এর নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এবার সেই পরিসংখ্যান উল্টে দিয়ে বিজেপি কি পারবে ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে? নাকি মমতা ব্যানার্জি তাঁর জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবেন? উত্তর মিলবে ৪ মে।