আইপ্যাক-এ এবার ‘ঋষি’ পতন? ভিনেশের পর ইডির জালে আরেক ডিরেক্টর, ভোটের মুখে চরম সংকটে তৃণমূলের ভোটকুশলীরা!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। সংস্থার ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল গ্রেফতার হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরেক শীর্ষ কর্তা ঋষি রাজকে দিল্লিতে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবারই তাঁকে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কে এই ঋষি রাজ?
আইপ্যাক-এর অন্দরে ঋষি রাজ অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। আইআইটি কানপুরের (IIT Kanpur) প্রাক্তনী ঋষি আগে এইচএসবিসি ও ক্রেডিট সুইসের মতো বিশ্ববিখ্যাত সংস্থায় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর লোকসভা— তৃণমূলের জয়ের রণকৌশল রচনার নেপথ্যে তাঁর মস্তিষ্ক ছিল অন্যতম চালিকাশক্তি। এমনকি অন্ধ্রপ্রদেশেও জগন মোহন রেড্ডির হয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

কেন এই তদন্ত?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দিল্লি পুলিশের রুজু করা একটি মামলার ভিত্তিতে অর্থ পাচারের (Money Laundering) তদন্ত শুরু করেছে ইডি। ভিনেশ চান্ডেলকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, সংস্থার বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতা রয়েছে। এর আগে কয়লা পাচার কাণ্ডেও আইপ্যাক-এর কলকাতা অফিস ও কর্মকর্তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

ভোটের মুখে ‘রহস্যময়’ ছুটি:
সবচেয়ে বেশি জল্পনা শুরু হয়েছে আইপ্যাক-এর একটি ইমেল ঘিরে। ভোটের এই চরম ব্যস্ততার মাঝে সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ১১ মে পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচন যখন মাঝপথে, তখন কেন হঠাৎ এই ‘প্যাক-আপ’? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচনের ঠিক আগে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির বলছে— “চুরি করলে জেল তো হবেই, এখানে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।”

এখন সবার নজর সোমবারের দিকে। ঋষি রাজ ইডির মুখোমুখি হয়ে কী বিস্ফোরক তথ্য দেন, নাকি হাজিরা এড়িয়ে নতুন কোনো আইনি মোড় নেন, সেটাই এখন দেখার।