“সব গুন্ডা হয় জেলে যাবে, নয়তো উপরে!” সাঁইথিয়া থেকে তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি রাজনাথ সিংয়ের

প্রথম দফার লোকসভা নির্বাচনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। প্রচারের একদম শেষ লগ্নে এসে বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আজ, সোমবার বীরভূমের সাঁইথিয়ায় বিজয় সংকল্প সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে রণহুঙ্কার ছাড়লেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতি।
রাজনাথের কড়া হুঁশিয়ারি:
এদিন সাঁইথিয়ার জনসভা থেকে রাজনাথ সিং সরাসরি ‘গুন্ডারাজ’ বন্ধের ডাক দেন। তিনি বলেন, “যেখানে বিনিয়োগকারীরা আসার কথা ছিল, যেখানে আপনাদের উন্নতির সুযোগ ছিল, সেখানে তৃণমূলের শাসনকালে গুন্ডারা যা খুশি তাই করছে। আপনারা রাজ্যে একবার বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, কথা দিচ্ছি সব গুন্ডা হয় ঘরে ঢুকে যাবে, না হয় জেলে পচবে, আর নাহলে উপরে চলে যাবে।” তাঁর এই ‘উপরে চলে যাওয়া’-র হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
দুর্নীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে তোপ:
রাজ্যের উন্নয়ন থমকে যাওয়ার জন্য তৃণমূলের দুর্নীতিকেই দায়ী করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল জমানায় যে হারে দুর্নীতি বেড়েছে, তা গোটা দেশের কাছে এখন স্পষ্ট। জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আপনারাই ঠিক করুন, আপনারা কি ভয় নিয়ে বাঁচতে চান নাকি মুক্তি চান?” মহিষাদলে নিতিন নবীনের প্রচার:
রাজনাথ যখন বীরভূমে ঝড় তুলছেন, ঠিক সেই সময়েই পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে বিজয় সংকল্প সভা সারছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তিনিও তৃণমূলকে উৎখাত করে বাংলায় ভূমিপুত্রদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ডাক দেন।
তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি:
প্রথম দফার প্রচারের সময় প্রায় শেষের পথে। শেষ মুহূর্তের এই প্রচারে রাজনাথ সিংয়ের মুখে ‘উপরে পাঠিয়ে দেওয়া’ বা জেলবন্দি করার বার্তা ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করবে, তা জানা যাবে ৪ মে। তবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে যে বঙ্গ রাজনীতিতে বারুদের গন্ধ ছড়াচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।