“কিসের ভিত্তিতে এই চাকরি?” আইপ্যাক ইস্যুতে মমতার মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে বিজেপি ও বিরোধীরা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর মাত্র ৯৬ ঘণ্টা বাকি। ঠিক এই মোক্ষম সময়ে তারকেশ্বরের নির্বাচনী জনসভা থেকে এক অভাবনীয় মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর কর্মীদের পরিশ্রমের প্রশংসা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, “আইপ্যাকের এই ছেলেমেয়েরা খুব খাটে। ভোট মিটলে ওদের এক-একজনকে আমি চাকরি দেব।”

মমতার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট: প্রশান্ত কিশোর প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে লুইজিনহো ফালেইরো ও অন্যান্যদের দ্বারা পরিচালিত আইপ্যাক সংস্থাটি গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করছে। এদিন মমতা বলেন:

  • পরিশ্রমের স্বীকৃতি: আইপ্যাক কর্মীরা যেভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন এবং ডাটা তৈরি করছেন, তাতে মুগ্ধ তৃণমূল নেত্রী।

  • কর্মসংস্থানের আশ্বাস: মমতা বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই শিক্ষিত যুবকরা যারা পেশাদারভাবে কাজ করছেন, তাঁদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে সরকার ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চায়।

কেন শুরু হয়েছে বিতর্ক? নির্বাচনের মুখে সরকারি চাকরির এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধান আপত্তির জায়গাগুলি হলো:

  • নির্বাচনী আচরণবিধি: ভোটের মাত্র ৪ দিন আগে জনসভা থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া কি আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘন নয়?

  • নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যু: রাজ্যে যখন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী এসএসসি (SSC) ও টেট (TET) আন্দোলন করছেন, তখন একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের ‘চাকরি দেব’ বলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

  • যোগ্যতার প্রশ্ন: সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সংস্থার কর্মীদের চাকরি দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ও মহম্মদ সেলিম।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: বিজেপির দাবি, “তৃণমূল আসলে বুঝতে পেরেছে তারা হারছে, তাই আইপ্যাকের ছেলেদের ধরে রাখতে এই মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নেত্রী মানবিক খাতিরে এবং মেধার কদর করতেই এই কথা বলেছেন, এর মধ্যে রাজনীতির চেয়েও কর্মসংস্থানের সদিচ্ছা বেশি।

উপসংহার: তারকেশ্বরের মাঠ থেকে ছিটকে আসা এই ‘চাকরি’র গোল্লা এখন বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে ফুটবলের মতো ঘুরছে। প্রথম দফার ভোটের আগে মমতার এই মন্তব্য কি ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলবে, নাকি বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল? উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সে।