লোন চলকালীন ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে সেই টাকা কি পরিবারকে দিতে হয়? জেনে নিন ব্যাঙ্কের নিয়ম!

অপ্রত্যাশিত প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ঋণ বা ‘পার্সোনাল লোন’ (Personal Loan) আমাদের বড় ভরসা। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। চড়া সুদের এই ঋণ নেওয়ার পর যদি কোনো কারণে ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হয়, তবে সেই বকেয়া টাকার কী হবে? দায় কি বর্তাবে পরিবারের ওপর, নাকি ব্যাঙ্ক মাফ করে দেবে সেই টাকা? চলুন জেনে নিই আইনি ও ব্যাঙ্কিং সত্য।
১. পরিবার কি লোন শোধ করতে বাধ্য?
সাধারণত পার্সোনাল লোন হলো ‘আনসিকিউরড লোন’ বা জামানতবিহীন ঋণ। অর্থাৎ এর বদলে কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখা থাকে না। আইন অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা মারা গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরাসরি এই টাকা শোধ করতে বাধ্য নন—যদি না তাঁরা আইনিভাবে ওই লোনের সাথে যুক্ত থাকেন। তবে ব্যাঙ্কের সঙ্গে করা চুক্তির (Loan Agreement) শর্তাবলীই এক্ষেত্রে শেষ কথা বলে।
২. সহ-ঋণগ্রহীতার (Co-borrower) ওপর বজ্রপাত!
যদি লোনটি যৌথভাবে নেওয়া হয়, তবে মূল ঋণগ্রহীতার মৃত্যুতে বেঁচে থাকা সহ-ঋণগ্রহীতার ওপর সমস্ত দায় চলে আসে। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক আশা করে যে, বাকি ইএমআই (EMI) সহ-ঋণগ্রহীতাই পরিশোধ করবেন। দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ সেখানে থাকে না।
৩. গ্যারান্টারদের ওপর কোপ
লোন নেওয়ার সময় আপনি কি কারোর গ্যারান্টার বা জামিনদার হয়েছিলেন? তবে সাবধান! মূল ঋণগ্রহীতা বা তাঁর পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে, ব্যাঙ্ক সরাসরি গ্যারান্টারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারে। গ্যারান্টার হওয়া মানেই হলো লোন পরিশোধের আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া।
৪. বন্ধকি সম্পত্তি কি নিরাপদ?
যদি ব্যক্তিগত ঋণের বিপরীতে কোনো সম্পত্তি (যেমন সোনা, জমি বা বাড়ি) বন্ধক রাখা থাকে, তবে ব্যাঙ্ক তা বিক্রি করে টাকা আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বকেয়া মেটাতে ব্যাঙ্ক সেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
বিশেষ পরামর্শ: ঋণের কিস্তি বা EMI চলার সময় জীবন বিমা (Loan Insurance) করিয়ে রাখা বুদ্ধিমত্তার কাজ। এতে ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলেও বিমা কোম্পানি বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেয় এবং পরিবার আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পায়।