“সেতু থেকে পাওয়ার প্ল্যান্ট—সব উড়িয়ে দেব!”—চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় বৈঠকের ডাক ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ যখন আরও ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক মঞ্চে বড় চমক দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে এক বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতেই মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে। তবে এই আলোচনার বার্তা যতটা না শান্তির, তার চেয়ে বেশি যেন প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি!

ট্রাম্পের ‘ফেয়ার ডিল’ ও ধ্বংসের হুমকি

নিজের স্টাইলে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিপূর্ণ’ প্রস্তাব ইরানের টেবিলে রাখছেন। কিন্তু ইরান যদি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে ফল হবে ভয়াবহ। ট্রাম্পের ভাষায়, “যদি তারা চুক্তি না মানে, তবে আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ইরানের প্রতিটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং প্রতিটি ব্রিজ গুঁড়িয়ে দেওয়া।” ৪৭ বছর ধরে যা করা হয়নি, তা-ই এবার করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

কেন এই দ্বিতীয় বৈঠক?

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকটি কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: আমেরিকা চাইছে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করুক, যা নিয়ে দুই পক্ষ এখনও বহুদূরে।

  • হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব বাজারের তেলের সাপ্লাই লাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ সচল রাখা নিয়ে দরকষাকষি তুঙ্গে।

  • সুরক্ষার অজুহাত: মজার বিষয় হলো, এবারের বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স থাকছেন না। ট্রাম্পের দাবি, ‘নিরাপত্তা জনিত’ কারণে ভ্যান্সের বদলে অন্য প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ফিল্ড মার্শাল মুনির

এই ঐতিহাসিক আলোচনার নেপথ্যে বড় কারিগর হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। ট্রাম্প খোদ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে তাঁকে ‘ফ্যান্টাস্টিক’ বলে অভিহিত করেছেন। বুধবার ২২ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বৈঠক থেকে কোনো বড় ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

উপসংহার: ট্রাম্পের এই ‘পাওয়ার গেম’ কি ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে? নাকি তেহরান তাদের অটুট ড্রোন ও মিসাইল শক্তির দম্ভে আবারও আলোচনার টেবিল ছাড়বে? উত্তর মিলবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই।