নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের সেতুবন্ধনে দীনেশ ত্রিবেদী! বঙ্গ নির্বাচনের মাঝেই কূটনৈতিক মহলে বড় খবর

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল সাউথ ব্লক। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত (High Commissioner) হিসেবে বর্ষীয়ান রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীর (Dinesh Trivedi) নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে খবর। বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মার কার্যকাল শেষ হওয়ার মুখেই এই হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার।

কবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি? বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর:

  • মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে: আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেন।

  • প্রক্রিয়া সম্পন্ন: ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন বা পরবর্তী সরকারের কাছে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে (Agrément)। সেই সবুজ সংকেত মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির সিলমোহর পড়বে।

কেন দীনেশ ত্রিবেদী? কূটনৈতিক মহলে এই প্রশ্নটি এখন সবথেকে বড়। কারণ সাধারণত ক্যাডার ভিত্তিক আইএফএস (IFS) অফিসাররাই এই পদ পান। তবে ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় কাজ করেছে: ১. রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা: কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২. ভাষাগত সুবিধা: বাংলাদেশের বর্তমান ডামাডোল পরিস্থিতিতে ‘বাংলা’ ভাষা এবং সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান থাকা একজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। ৩. বিশ্বাসযোগ্যতা: মোদী এবং শাহ-র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ত্রিবেদী বর্তমানে বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি। তাঁর মাধ্যমে সরাসরি রাজনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রাখতে চাইছে দিল্লি।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগেই এই খবর প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক সমীকরণও বদলাচ্ছে। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন বাংলার পরিচিত মুখকে প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রদূত করার মাধ্যমে কেন্দ্র আসলে বাংলার ভোটারদের কাছেও এক বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে।

উপসংহার: ঢাকার মসনদে রাজনৈতিক রদবদলের পর ভারতের জন্য বাংলাদেশ এখন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ক্ষেত্র। সেখানে একজন ‘নন-ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট’ হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী কতটা সফল হন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক বিশ্ব।

Editor001
  • Editor001