মণিপুরে রণক্ষেত্র! ২ শিশুর মৃত্যুতে ৫ দিনের বনধ, ফের জ্বলছে ইম্ফল থেকে কাকচি

শান্ত হওয়ার বদলে নতুন করে অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর। চলতি মাসের শুরুতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৫ বছরের এক শিশুপুত্র এবং মাত্র ৫ মাসের এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যুতে উপত্যকা জুড়ে বইছে ক্ষোভের ঢেউ। এর প্রতিবাদেই নাগরিক সমাজ ও প্রমিলা বাহিনী ‘মেইরা পাইবিস’-এর ডাকা ৫ দিনের বনধে রবিবার থেকেই অচল হয়ে পড়েছে রাজ্যের উপত্যকা অঞ্চল।

স্তব্ধ জনজীবন, রাজপথে হাজারো মানুষ

রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই বনধের জেরে বাজারঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং পরিবহণ পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ। আন্দোলনকারীদের দাবি স্পষ্ট— শিশুদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কড়া ব্যবস্থা। ইম্ফল পূর্ব ও পশ্চিম জেলা থেকে শুরু করে কাকচিং পর্যন্ত রাতভর মশাল মিছিল ও প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনপদ।

প্রতিবাদীদের ওপর টিয়ার গ্যাস, সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কাকচিং

রবিবার রাতে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় কাকচিং জেলায়। সেখানে প্রতিবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই বনধ চলবে এবং দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীর ছায়া? পুলিশের সতর্কবার্তা

মণিপুর পুলিশ এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • অসামাজিক অনুপ্রবেশ: মাইরা পাইবিসের মিছিলে কিছু দুষ্কৃতী মিশে গিয়ে হিংসা ছড়াচ্ছে।

  • অত্যাধুনিক অস্ত্র: পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা, লোহার প্রজেক্টাইল এবং ক্যাটাপল্ট (গুলতি) ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • মদ ও নেশার প্রভাব: পুলিশের দাবি, অনেক প্রতিবাদী মদ্যপ অবস্থায় হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম দেখালেও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিস্ফোরণ ও বিচারহীনতার ক্ষোভ

বিষ্ণুপুরে গত ৭ এপ্রিলের সেই বিস্ফোরণ মণিপুরের ক্ষতবিক্ষত জাতিগত উত্তেজনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ডাকা এই বনধ রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

মণিপুরের এই অশান্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এখন আতঙ্কের ছায়ায় ঢাকা। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখলেও জনরোষ সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।