ভোটের আগেই কি মাস্টারস্ট্রোক প্রিয়াঙ্কার? মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সোমবারেই চাইলেন ‘নারী বিল’!

লোকসভার বিশেষ অধিবেশনে সংবিধানের (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস হতে ব্যর্থ হওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৫৪টি ভোটের ব্যবধানে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে না পারায় মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদী সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিল। আর এই সুযোগেই সরকারকে একহাত নিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা।
সোমবারের ডেডলাইন দিলেন প্রিয়াঙ্কা
শনিবার (১৮ এপ্রিল) অধিবেশন শেষে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “ভণিতা ছেড়ে সোমবারেই (২০ এপ্রিল) সংসদ বসিয়ে সেই পুরোনো নারী বিলটি আনুন যা সব দলের সমর্থনে আগে পাস হয়েছিল। বিলটি আনুন এবং দেখুন কারা আসল নারী-বিরোধী! আমরা সবাই আপনাদের সমর্থন দেব।” প্রিয়াঙ্কার দাবি, বর্তমান সরকার নারী সংরক্ষণের নামে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের (আসন সংখ্যা ৮৫০ করার চেষ্টা) হীন চেষ্টা চালাচ্ছে।
কেন ব্যর্থ হলো বিলটি?
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় বিলটির ওপর ঐতিহাসিক ২১ ঘণ্টা আলোচনার পর ভোটাভুটি হয়। উপস্থিত ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে:
পক্ষে ভোট: ২৯৮টি।
বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি।
ঘাটতি: বিল পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২টি ভোট। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় ৫৪ ভোটের জন্য বিলটি বাতিল হয়ে যায়।
ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের রণকৌশল
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীকে একটি যৌথ চিঠি লিখতে চলেছে বিরোধী জোট। জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সারা দেশজুড়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধীরা জানাবে তারা নারী সংরক্ষণের পক্ষে, কিন্তু সরকারের ‘অন্তঃসারশূন্য’ কৌশলের বিপক্ষে। সোনিয়া গান্ধী সমস্ত সহকর্মীদের এই ঐক্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
“গণতন্ত্রের জয়”
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে বলেন, “২০১১ সালের আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত চাপিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ত্রাণকর্তা সাজাতে চেয়েছিলেন, যা আজ ব্যর্থ হলো। বিরোধীরা আজ দেখিয়ে দিয়েছে যে ভারতের কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা শেষ হয়েছে।” আজ দুপুর ১২টায় একটি মেগা সংবাদ সম্মেলন করতে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা।