টিসিএস কাণ্ডে এবার এটিএস-এর এন্ট্রি! দিল্লি বোমা হামলার যোগসূত্র? পলাতক নিদাকে নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর অন্দরে চলা জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা এখন জাতীয় নিরাপত্তার স্তরে পৌঁছেছে। এই নৃশংস চক্রের মূল পান্ডা নিদা খান এখনও পলাতক থাকলেও, তাঁর গ্রেপ্তারি এড়াতে করা আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি আজ নাসিক আদালতে। এদিকে, তদন্তের জল গড়াল আন্তর্জাতিক যোগসূত্র পর্যন্ত!
আসরে এটিএস (ATS): আন্তর্জাতিক কল ও আর্থিক লেনদেনের হদিশ?
মামলাটি সাধারণ অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবার ময়দানে নেমেছে সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড (ATS)। নাসিক থেকে ধৃত রাজা মেনন ও শফি শেখকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা করেছেন এটিএস আধিকারিকরা। সূত্রের খবর:
জেরা চলাকালীন অভিযুক্তদের ফোনের আন্তর্জাতিক কল লিস্ট এবং বড় অংকের বিদেশি অর্থায়নের সূত্র মিলেছে।
তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে যে, এই চক্রের সঙ্গে দিল্লি বোমা হামলার অভিযুক্তদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।
রিসোর্ট ও লজে চলত নারকীয় অত্যাচার
তদন্তে উঠে এসেছে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইগাতপুরীর বাসিন্দা তৌসিফ আত্তারের নাম। সে নির্যাতিতাদের ইগাতপুরীর বিভিন্ন গোপন রিসোর্ট ও লজে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালাত। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই স্থানগুলো শনাক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট লজ মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যুক্ত হলো এসসি/এসটি (SC/ST) ও নৃশংসতা আইন
তদন্ত যত এগোচ্ছে, অভিযোগের তালিকা তত দীর্ঘ হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিতাদের মধ্যে একজন তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় পুলিশ এই মামলায় এসসি/এসটি প্রিভেনশন অফ অ্যাট্রোসিটিজ অ্যাক্ট যুক্ত করেছে। ধর্ষণ ও ধর্মান্তকরণের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ধারাগুলি যুক্ত হওয়ায় অভিযুক্তদের আইনি জালে ফাঁসানোর পথ আরও প্রশস্ত হলো।
নিদা খানকে বরখাস্ত করল টিসিএস
২০২১ সালে প্রসেস অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেওয়া নিদা খানকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করেছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। পুলিশ মনে করছে, নিদা খানই হলো এই পুরো ‘কর্পোরেট জিহাদ’ চক্রের মূল সংযোগকারী বা ‘লিঙ্ক-পিন’।