ভারত থেকে আমেরিকা—সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ! হরমুজ প্রণালী বন্ধের মাশুল গুনবে সাধারণ মানুষ

একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বিশ্ব? আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরান যুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি থমকে যাবে। এর আগে প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ ধরা হলেও, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তা কমিয়ে ৩.১ শতাংশ করা হয়েছে।
আইএমএফ-এর মতে, ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে তেহরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে তীব্র উল্লম্ফন ঘটবে। ইতিমধ্যেই আইএমএফ তাদের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৪ শতাংশ করেছে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরাঞ্চ সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগামী দু’বছরে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
এই যুদ্ধের জেরে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোও বড় ধাক্কার সম্মুখীন। জ্বালানি আমদানিকারক গরিব দেশগুলোর পরিস্থিতি হবে সবচেয়ে শোচনীয়। একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক ‘ক্ষুরধার পথে’ হাঁটছে। তবে এই সংকটের মাঝেও একমাত্র জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রাশিয়ার অর্থনীতি কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। অন্যদিকে, ইউক্রেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিশ্ববাজারের জন্য অশনি সংকেত।