মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পুড়ছে ভারতের সোনার বাজার! মার্চে গয়না রপ্তানি কমল ৩৫ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের সংকটের কালো মেঘ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের রত্ন ও গহনা শিল্পে। মঙ্গলবার জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (GJEPC) চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের রত্ন ও গহনা রপ্তানি একধাক্কায় ৩৫.২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭,৭১৭.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং গয়নার চাহিদা—উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জিজেইপিসি-র চেয়ারম্যান কিরিট ভানসালি জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে হিরে ও গয়নার পার্সেল পরিবহন একপ্রকার থমকে গিয়েছিল। তার ওপর যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে আকাশছোঁয়া বিমার প্রিমিয়াম রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও আশার আলো দেখছেন তিনি। ভানসালি মনে করেন, সরকার যদি নীতিগত সহায়তা দেয়, তবে ভারত অপরিশোধিত হিরে বাণিজ্যের বিশ্বমঞ্চে প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) কোম্পানিগুলো ভারতে অপরিশোধিত হিরে বাণিজ্যে বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট রত্ন ও গহনা রপ্তানি ৩.৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে কাটা ও পালিশ করা হিরে (CPD) রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ। যদিও সোনার গহনার বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, তবে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রুপোর গহনা। আগের বছরের তুলনায় রুপোর গহনা রপ্তানি প্রায় ৫২.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪৬৭.৪৭ মিলিয়ন ডলারে। ভানসালি আশাবাদী যে, আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হলে ভারত আবার নতুন উদ্যমে বিশ্ববাজারে নিজের আধিপত্য ফিরে পাবে।