রুশ তেলের বন্দরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা! ভারতের জ্বালানি সংকটের প্রহর গুনছে দিল্লি?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ছে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায়। ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনীর লাগাতার নিশানায় এখন রাশিয়ার প্রধান তেল রফতানিকারী বন্দরগুলো। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই হামলা দীর্ঘমেয়াদী হলে ভারতের অপরিশোধিত তেলের নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থা বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। ভারতের আমদানিকৃত রুশ তেলের সিংহভাগই আসে বাল্টিক এবং কৃষ্ণসাগর সংলগ্ন বন্দরগুলো দিয়ে, যা এখন যুদ্ধের মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর ভারত রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করেছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে প্রিমোর্স্ক, উস্ত-লুগা এবং নভোরোসিস্ক—এই তিনটি বড় বন্দর থেকে। গত কয়েক মাসে এই তিনটি কৌশলগত বন্দরই বারবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এর ফলে বন্দরে তেল লোডিংয়ের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও আংশিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু পূর্ণ মাত্রায় জোগান এখনও অনিশ্চিত।
পশ্চিমী দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মাঝে সস্তায় রুশ তেল ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় ঢাল হিসেবে কাজ করছিল। গত মার্চ মাসেও ভারত দৈনিক গড়ে প্রায় ১৯.৮ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে। কিন্তু যুদ্ধের এই নতুন মোড় সব হিসেব ওলটপালট করে দিচ্ছে। বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ বাড়বে, তেমনই সময়সাপেক্ষ এই প্রক্রিয়া ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারেও চাপ সৃষ্টি করবে। তার ওপর আমেরিকার সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এশীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের এই হানা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।