নববর্ষের উপহার! ক্ষমতায় এলেই অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা, কৃষকদের ৯০০০! মালদায় বিরাট ঘোষণা অমিত শাহর

পহেলা বৈশাখের ঠিক আগের দিন মালদা দক্ষিণে দাঁড়িয়ে লোকসভা নির্বাচনের ‘হালখাতা’ খুলে ফেললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার মালদার বিশাল জনসভা থেকে একদিকে যেমন প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেন শাহ, অন্যদিকে তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলার ডাক দিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন, “৫ মে তারিখটা আসতে দিন, দুর্নীতিবাজরা সবাই জেলে যাবে!”
প্রতিশ্রুতির পাহাড়: অ্যাকাউন্টে ঢুকবে কত টাকা?
এদিন মালদার সভা থেকে বাংলার ভোটারদের জন্য বড়সড় ঝুলি খুলে ধরেন শাহ। তাঁর প্রধান ঘোষণাগুলি হলো:
-
মহিলা ও যুবকদের জন্য: বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলা ও যুবকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
-
কৃষকদের জন্য বড় সুখবর: বর্তমানে মোদী সরকার কৃষকদের বছরে ৬,০০০ টাকা দেয়। শাহর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি এলে আরও ৩,০০০ টাকা যোগ করে বছরে ৯,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
-
বিনামূল্যে চিকিৎসা: দরিদ্র পরিবারগুলিকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার আশ্বাস দেন তিনি।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ফর্ম পূরণ’ কৌশল
ভোটের আগে সংগঠনকে বুথ স্তরে শক্তিশালী করতে শাহ এক নতুন কৌশলের কথা জানান। তিনি বলেন, “আগামীকাল থেকেই বাংলা নতুন বছরে পা দেবে। আর কাল থেকেই বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ও যুবকদের ফর্ম পূরণ করাবেন।” এই পদক্ষেপকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা চাল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মমতাকে কড়া আক্রমণ ও ‘জেল’ হুঁশিয়ারি
এদিন ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল তৃণমূলের দুর্নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা ইস্যু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে শাহ বলেন:
“মমতা দিদির গুণ্ডারা আমাদের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার করছে। বাংলার মহিলারা আর নিরাপদ নন। ৫ মের পর থেকে সময় বদলাবে, যারা যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, কাউকেই ছাড়বে না কেন্দ্রীয় সংস্থা।”
এক নজরে অমিত শাহর প্রধান প্রতিশ্রুতি:
| ক্ষেত্র | বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী মিলবে? |
| মহিলা ও যুবক | মাসে ৩,০০০ টাকা (সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে) |
| কৃষক | বছরে মোট ৯,০০০ টাকা |
| স্বাস্থ্য | ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা বিমা |
| দুর্নীতি | জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা ও জেল |
মালদা দক্ষিণের এই সভায় জনজোয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির। শাহর এই ‘অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি’ এবং ‘জেল হুঁশিয়ারি’ উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণকে কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।