ইরান যুদ্ধের সুযোগে মাস্টারস্ট্রোক ভারতের! রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ল ৩০০%, মস্কোর দ্বিতীয় বৃহত্তম খদ্দের দিল্লি

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্ব বাজারে নিজের দাপট বজায় রাখল ভারত। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, ঠিক সেই মোক্ষম সময়ে রাশিয়ার থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করল ভারত। ইউরোপীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘CREA’-এর রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ তিন গুণ বেড়ে ৫৩০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে।

কেন হঠাৎ এই বিপুল বৃদ্ধি?

বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে ভারতের এই ‘ইউ-টার্ন’-এর নেপথ্যে রয়েছে কিছু কৌশলী কারণ:

  • মার্কিন ছাড়: ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ওয়াশিংটন এক মাসের জন্য রুশ তেলের ওপর বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। ভারত সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে।

  • সরকারি শোধনাগারের প্রত্যাবর্তন: ম্যাঙ্গালোর এবং বিশাখাপত্তনমের মতো সরকারি শোধনাগারগুলি, যারা এতদিন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, তারা মার্চ মাসে আমদানিতে ১৪৮ শতাংশ জোয়ার এনেছে।


ভারতের ‘শোধনাগার নীতি’তে নাজেহাল পশ্চিমী দুনিয়া!

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যে দেশগুলি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তারা ঘুরপথে ভারত থেকেই সেই তেল কিনছে।

  • রিলায়েন্সের জামনগর কানেকশন: মার্চের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জামনগর শোধনাগারের কাঁচামালের ২৫ শতাংশই ছিল রুশ তেল। আর সেই তেল পরিশোধিত হয়ে ডিজেল বা পেট্রোল আকারে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (১৬৮ মিলিয়ন ইউরো)।

  • ইউরোপের টানাপোড়েন: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) রুশ পণ্য নিষিদ্ধ করলেও ফ্রান্সসহ অন্যান্য ইইউ দেশগুলি ভারত থেকেই পরিশোধিত তেল কিনছে। মার্চ মাসে ভারত থেকে এমন ৪টি বড় চালান ইউরোপে খালাস করা হয়েছে।

এক নজরে মার্চের খতিয়ান:

বিষয় বিবরণ
মোট আমদানি (জীবাশ্ম জ্বালানি) ৫৪০ কোটি ইউরো
শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল ৫৩০ কোটি ইউরো (৯১%)
বিশ্ব বাজারে ভারতের স্থান রাশিয়ার তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা
আমদানি বৃদ্ধি ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৩০০%

ইউরোপের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ

ভারতের এই কৌশলী পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। নিষেধাজ্ঞার ফাঁক গলে কীভাবে রুশ তেল ইউরোপে ঢুকছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবিও উঠছে। তবে মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারত তার এই তেল আমদানির জয়যাত্রা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।