ইসরায়েলের সঙ্গে ২০ বছরের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে ইতালি? হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি মেলোনির!

ইসরায়েলের সঙ্গে ২০ বছরের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে চিড়! লেবানন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে ইতালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রীতে এবার বড়সড় ফাটল। ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি নিয়ে নতুন করে ভাবছে রোম। প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের যে সহযোগিতা ছিল, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় তা এখন খাদের কিনারায়।

ঠিক কী কারণে এই সংঘাত? ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে এই টানাপোড়েনের মূলে রয়েছে লেবানন পরিস্থিতি। ইতালির অভিযোগ, লেবাননে মোতায়েন করা রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। তাঁর সাফ কথা, “বেসামরিক মানুষ এবং শান্তি রক্ষা বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

কূটনৈতিক যুদ্ধ তুঙ্গে: প্রতিবাদের জবাবে ইসরায়েলও ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাল্টা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তবে নতিস্বীকার করতে নারাজ রোম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি সরাসরি বৈরুতে গিয়ে লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, ইতালি সবসময় লেবাননের সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।

হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক সংকট: এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনি যুদ্ধের দ্রুত অবসানের ডাক দিয়েছেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন হরমুজ প্রণালী সচল করার ওপর। মেলোনির মতে:

  • হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রধান ধমনী।

  • তেলের পাশাপাশি সার সরবরাহের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়তে পারে।

উপসংহার: ইতালির এই অবস্থান প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শুধু সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সামরিক চুক্তিগুলোকেও ওলটপালট করে দিচ্ছে।