চেন্নাই-বেঙ্গালুরু পারলে কলকাতা কেন নয়?” পুরসভার কাজে ঢিলেমির অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন স্মিতা পাণ্ডে

লোকসভা ভোটের আবহে কলকাতা পুরনিগমের পরিষেবা কি ব্যাহত হচ্ছে? আধিকারিকদের একাংশের তোলা এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে এবার মুখ খুললেন খোদ পুর কমিশনার তথা ডিইও (নর্থ) স্মিতা পাণ্ডে। সাফ জানিয়ে দিলেন, “যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরা জানেন না যে কোনও পরিষেবা ব্যাহত হয়নি।”

কী নিয়ে সংঘাত?

রাজ্যে এবারই প্রথম নজিরবিহীনভাবে কলকাতা পুর কমিশনারকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) করা হয়েছে। কর্মী ও আধিকারিকদের একাংশের অভিযোগ:

  • কমিশনার নির্বাচনের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকায় পুরসভার বহু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই হচ্ছে না।

  • এর ফলে সাধারণ নাগরিক পরিষেবা এবং পরিকাঠামোগত কাজের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে।

চেন্নাই-বেঙ্গালুরুর উদাহরণ দিয়ে পাল্টা জবাব

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্মিতা পাণ্ডে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন। তাঁর যুক্তি:

  • “চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুর মিউনিসিপ্যাল কমিশনাররাই সেখানে ডিইও-র দায়িত্ব সামলান। পশ্চিমবঙ্গে এটা প্রথমবার হলেও এটি কোনো নতুন বিষয় নয়।”

  • তিনি আরও যোগ করেন, জেলাশাসক বা ডিএম অফিসগুলোতেও নির্বাচনের কাজের পাশাপাশি জেলার সব পরিষেবা চালু থাকে। পুরসভাও তার ব্যতিক্রম নয়।


“সব অভিযোগ মিটিয়েছি”: স্মিতা পাণ্ডে

ঝড়-বৃষ্টির উদাহরণ টেনে কমিশনার দাবি করেন, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও আলো, রাস্তা বা ভেঙে পড়া গাছ সরানোর কাজ দ্রুত করা হয়েছে। শহরের কোথাও জল জমতে দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়:

“প্রতিদিন আমার কাছে যা অভিযোগ আসে, আমরা তার সমাধান করি। ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিচ্ছি। একজনও বলতে পারবে না যে কাউকে পরিষেবা দিতে পারিনি।”

অন্দরের খবর: ক্ষোভ কি কমছে?

কমিশনার পরিষেবা স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও, পুরসভার আধিকারিকদের একাংশ কিন্তু এখনও তলে তলে ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, কমিশনারের স্বাক্ষর ছাড়া অনেক ফাইল এগোনো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। যদিও প্রকাশ্য মুখ খুলতে নারাজ তাঁরা।

নির্বাচন এবং পুর-পরিষেবা— এই দুই নৌকায় পা দিয়ে কলকাতা পুরনিগম শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।