সবচেয়ে কম বয়সে বিহারের মন্ত্রী হতে চলেছেন মৈথিলী ঠাকুর? সম্রাট চৌধুরীর জমানায় নতুন চমকের অপেক্ষায় অনুরাগীরা!

বিহারের রাজনীতিতে এখন বসন্তের হাওয়া। নীতীশ কুমারের প্রস্থান আর সম্রাট চৌধুরীর রাজ্যাভিষেকের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসছেন এক তরুণী— মৈথিলী ঠাকুর। প্রখ্যাত এই লোকসঙ্গীত শিল্পী কি এবার বিহারের সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন? বুধবার সম্রাট চৌধুরীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে এই প্রশ্নই এখন পাটনার অলিতে-গলিতে।

এক তীরে একাধিক লক্ষ্যভেদ মৈথিলীর!

নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর নাম ঘোষণা হতেই তাঁকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন মৈথিলী। তবে কেবল শুভেচ্ছাতেই থেমে থাকেননি এই তরুণ বিজেপি বিধায়ক। তিনি একদিকে যেমন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের প্রশংসা করে তাঁকে ‘সুশাসন বাবু’ আখ্যা দিয়েছেন, তেমনই সুকৌশলে লালু যাদবের জমানার ‘জঙ্গলরাজ’কে বিঁধেছেন। মৈথিলীর কথায়, “নীতীশজি বিহারকে জঙ্গলরাজ থেকে সুশাসনের পথে এনেছেন। আর সম্রাটের হাত ধরে বিহারে এবার বড় পরিবর্তন আসবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই এক বয়ানেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গুডবুক-এ জায়গা করে নিয়েছেন।

কে এই মৈথিলী ঠাকুর?

২০০০ সালের ২৫ জুলাই মধুবনী জেলার বেণীপত্তিতে জন্ম মৈথিলীর। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে বাবার কাছেই ধ্রুপদী সঙ্গীতের পাঠ শুরু। সোশ্যাল মিডিয়ায় গান গেয়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা মৈথিলী আজ বিহারের সংস্কৃতির আইকন। তাঁর বাবা রমেশ ঠাকুর একজন সঙ্গীত শিক্ষক এবং দুই ভাই ঋষভ ও আয়াসিও সঙ্গীতের সঙ্গেই যুক্ত।

প্রথম লড়াইতেই বাজিমাত

সঙ্গীতের মঞ্চ থেকে রাজনীতির ময়দানে এসেই রেকর্ড গড়েছেন মৈথিলী। গত বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। প্রথমবার লড়াই করেই আরজেডি-র দাপুটে নেতা বিনোদ মিশ্রকে ৮,০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিহারের কনিষ্ঠতম বিধায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি।

মন্ত্রিত্ব কি কেবল সময়ের অপেক্ষা?

সম্রাট চৌধুরীর মন্ত্রিসভায় মৈথিলী ঠাকুরের জায়গা পাওয়া নিয়ে তাঁর সমর্থকরা সোচ্চার। তাঁদের দাবি, মৈথিলীর জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দেওয়া উচিত। যদি তা হয়, তবে বিহারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে মন্ত্রী হওয়ার নজির গড়বেন এই ‘মৈথিলী কোকিল’।