সংসদে আসছে ঐতিহাসিক ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’! লোকসভায় আসন বেড়ে হতে পারে ৮৫০, ৩৩% সংরক্ষণ নিয়ে বড় আপডেট

ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে নারীশক্তির অধিকার নিশ্চিত করতে আগামী বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ বা সাংবিধানিক সংশোধনী বিলটি লোকসভায় পেশ করা হবে। এই বিলের প্রধান লক্ষ্য হলো— লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সুনিশ্চিত করা।

আসন সংখ্যায় বড় রদবদল

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ পর্যন্ত করা হতে পারে। এই বিপুল আসন বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন করে ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে, যাতে সাধারণ সংরক্ষিত এবং অসংরক্ষিত আসনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

সংবিধানের কোন ধারা সংশোধন হবে?

এই নতুন ব্যবস্থা চালু করতে ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ৮১ (Article 81) সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী:

  • রাজ্যগুলির আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে সরাসরি নির্বাচিত হবেন সর্বোচ্চ ৮১৫ জন সদস্য।

  • কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য সংরক্ষিত থাকবে সর্বোচ্চ ৩৫টি আসন

  • অর্থাৎ, লোকসভার সদস্য সংখ্যা বাড়লে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

জনগণনা ও ডিলিমিটেশন

সাধারণত নতুন জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস হয়। কিন্তু ২০৩১ সালের জনগণনার জন্য অপেক্ষা করলে এই বিল কার্যকর হতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই সরকারের পরিকল্পনা হলো— ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু করা। দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর এবং পুদুচেরির মতো বিধানসভাযুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্যও একই দিনে পৃথক সক্ষমতামূলক বিল আনা হবে।

সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংরক্ষণ

এই বিলে শুধু সাধারণ মহিলাদের জন্য আসন রাখা হয়নি, বরং তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি জনজাতির (ST) মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও ৩৩ শতাংশ সাব-কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া স্তরের নারীরাও জাতীয় নীতিনির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।