ইরান থেকে সরাসরি তেল কিনছে রিলায়েন্স! আম্বানির মাস্টারস্ট্রোক কি বদলে দেবে ভারতের ভাগ্য?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বজায় থাকলেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার এবং দেশের প্রথম সারির বেসরকারি সংস্থা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আবহে আপাতত যুদ্ধবিরতি চললেও, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরাসরি ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করল ভারত।
রিলায়েন্সের বড় চাল:
সূত্রের খবর, মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (RIL) ইরান থেকে সরাসরি তেল কেনার তোড়জোড় শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে ইতিমধ্যে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। কোন দেশের মুদ্রায় লেনদেন হবে এবং আইনি বাধা কীভাবে কাটানো যাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ছাড়পত্র মিললেই গুজরাটের সিক্কা বন্দরে ভিড়বে ইরানের তেলবাহী জাহাজ। জানা গিয়েছে, রিলায়েন্সের অনুরোধে জাহাজ মন্ত্রক ইতিমিধ্যেই চারটি ইরানি জাহাজকে নোঙর করার প্রাথমিক অনুমতি প্রদান করেছে।
কাতারের আশ্বাস ও হরমুজ প্রণালী:
যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ভারতকে আশ্বস্ত করেছে কাতার। দোহায় কাতারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। কাতার সাফ জানিয়েছে, আগের মতোই তেল ও গ্যাস সরবরাহ বজায় থাকবে। পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতে বিনা শুল্কে ভারতীয় জাহাজ চলাচল করতে পারে, তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
নতুন চুক্তি ও কূটনৈতিক তৎপরতা:
জ্বালানি সংকট রুখতে ভারত শুধু এক জায়গায় থেমে নেই। বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, মরিশাসের সঙ্গে ভারতের নতুন গ্যাস ও তেল সরবরাহ চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে। একইসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত এবং বাহারিনের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আমদানি-রফতানি নিয়ে কথা বলেছেন।
নজরে মার্কিন যোগসূত্র:
ইরানের সঙ্গে ভারতের এই বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে কূটনৈতিক মহলে স্বস্তির খবর এই যে, আগামী মে মাসেই ভারত সফরে আসছেন মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে মার্কিন আধিকারিকদের বৈঠকের পর এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে, যা ভারতের বিদেশনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।