শাশুড়ির সেবা না করলে খোয়া যাবে চাকরি! পুত্রবধূকে কড়া হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

সহানুভূতিমূলক বা করুণাভিত্তিতে চাকরি পাওয়া কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার নয়; বরং এটি মৃত কর্মীর পরিবারের ওপর নেমে আসা চরম আর্থিক সংকট কাটানোর একটি উপায়। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনই এক কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো পুত্রবধূ চাকরি পাওয়ার পর তাঁর নির্ভরশীল শাশুড়ির ভরণপোষণ করতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হতে পারে।
ঘটনার নেপথ্যে: এক বিধবা মায়ের কান্না
মামলাটি অম্বিকাপুরের বাসিন্দা জ্ঞানতী তিওয়ারিকে নিয়ে। তিনি তাঁর স্বামী ও পুত্র উভয়কেই হারিয়েছেন। স্বামী ঘনশ্যাম তিওয়ারি পুলিশ কনস্টেবল থাকাকালীন ২০০১ সালে মারা যান। এরপর তাঁর পুত্র অবিনাশ তিওয়ারি সহানুভূতিমূলক নিয়োগ পান। অবিনাশ পরে নেহা তিওয়ারিকে বিয়ে করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০২১ সালে অবিনাশেরও মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর স্ত্রী নেহাকে স্বামীর পরিবর্তে ওই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চাকরি পেতেই বদলে গেল পুত্রবধূর রূপ!
আদালতে পেশ করা আবেদন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিটি পাওয়ার পর থেকেই নেহা তিওয়ারির আচরণ বদলে যায়। অভিযোগ, তিনি শুধু তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ির সঙ্গে দুর্ব্যবহারই করেননি, বরং তাঁর সমস্ত খরচ বহন করতেও অস্বীকার করেন। শাশুড়ি জ্ঞানতী দেবী জানান, নেহা এই শর্তে এবং হলফনামা দিয়ে চাকরিটি পেয়েছিলেন যে তিনি তাঁর শাশুড়ির দেখাশোনা করবেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁকে নিঃস্ব করে রাখা হয়েছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি এ. কে. প্রসাদ মামলার শুনানিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন:
সহানুভূতিমূলক নিয়োগ কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ বা উপহার নয়। এটি গোটা পরিবারের সুরক্ষাকবচ।
মৃত কর্মচারীর স্থলে যিনি নিয়োগ পান, তাঁর ওপর একই আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব বর্তায়।
যদি কোনো কর্মচারী তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের ভরণপোষণের শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে বরখাস্ত করা যেতে পারে।
হুঁশিয়ারি ও আবেদন
ভুক্তভোগী জ্ঞানতী দেবী আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন তাঁর পুত্রবধূর নিয়োগপত্রটি বাতিল করা হয় এবং তাঁর অবিবাহিত কন্যা প্রীতি তিওয়ারিকে ওই চাকরিটি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। আদালত আপাতত পুত্রবধূকে তাঁর দায়িত্ব পালনের চূড়ান্ত সতর্কতা দিয়েছে, অন্যথায় চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।