ভোটের ৯৬ ঘণ্টা আগেই মদ বন্ধ! কমিশন না কি আবগারি দপ্তর, কার নির্দেশে বাংলায় ‘ড্রাই ডে’?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে এক নজিরবিহীন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে মদ বিক্রি নিয়ে। সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ‘শুষ্ক দিবস’ বা ‘ড্রাই ডে’ পালনের নিয়ম থাকলেও, এবার ৯৬ ঘণ্টা আগে থেকেই রাজ্যে মদের দোকান ও বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এই সিদ্ধান্তের দায় নিতে অস্বীকার করে খোদ আবগারি দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
কমিশন বনাম আবগারি দপ্তর: দড়িটানাটানি
বাংলার প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩শে এপ্রিল। নিয়মানুযায়ী ২১শে এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে মদ বিক্রি বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত রবিবার (১৯শে এপ্রিল) গভীর রাতে হঠাৎ করেই রাজ্য আবগারি বিভাগ একটি আদেশ জারি করে সোমবার থেকেই মদের দোকান ও বার বন্ধ করে দেয়।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়েছেন:
“নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার বেশি আগে মদ নিষিদ্ধ করার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কেন এবং কার অনুমতিতে এত আগে মদের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সে বিষয়ে আমরা আবগারি কমিশনারের কাছে কৈফিয়ত চাইব।”
কোথায় কোথায় বিধি-নিষেধ?
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের জন্য ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। মদের দোকান ও বারগুলিকে আপাতত রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোট (২৯শে এপ্রিল) যে এলাকায় রয়েছে, বিশেষ করে কলকাতায়—সেখানে এখনই মদ বিক্রির ওপর কমিশনের কোনো বিধিনিষেধ নেই বলে জানানো হয়েছে।
ভোটের পরিসংখ্যান একনজরে:
প্রথম দফা (২৩শে এপ্রিল): ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ।
দ্বিতীয় দফা (২৯শে এপ্রিল): ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ।
প্রচার শেষ: প্রথম দফার প্রচার শেষ হয়েছে ২১শে এপ্রিল সন্ধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আবগারি দপ্তর আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিলেও, কমিশনের অনুমতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করছে। এখন দেখার বিষয়, আবগারি দপ্তরের জবাবে সন্তুষ্ট হয় কি না কমিশন।