যোগী ম্যাজিকে কি কাঁপবে বাংলা? রবিবার থেকেই বাঁকুড়া-কাঁথিতে মেগা শো উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর!

ভোটের বাংলায় এবার পারদ চড়াতে এলেন খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মোদী-শাহের পর এবার বাংলার অলিতে গলিতে হিন্দুত্বের গর্জন শোনাতে গেরুয়া শিবিরের ‘পোস্টার বয়’-কে নামিয়ে দিল দিল্লি। খবর অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে বাংলায় এক ডজন অর্থাৎ ১২টি হাইভোল্টেজ সভা ও রোড শো করতে চলেছেন যোগী।
রবিবার থেকেই ময়দানে যোগী: লক্ষ্য জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুর
সূচি অনুযায়ী, আগামিকাল রবিবার থেকেই প্রচারের রণডঙ্কা বাজিয়ে দিচ্ছেন যোগী আদিত্যনাথ। প্রথম দিনেই তাঁর লক্ষ্য দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ দুই কেন্দ্র:
বাঁকুড়ার পাত্রসায়র: যেখানে হিন্দুত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্নে জনগর্জন সভা করবেন তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি: শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে তৈরি উত্তরপ্রদেশের ‘মহারাজ’।
কেন যোগীর ওপর ভরসা করছে বিজেপি?
রাজনৈতিক মহলের মতে, যোগী আদিত্যনাথ কেবল একজন মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি বিজেপির কট্টর হিন্দুত্বের প্রতীক। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ দমনে তাঁর জনপ্রিয় ‘বুলডোজার নীতি’ এবং সরাসরি হিন্দুত্বের পক্ষে সওয়াল করার ধরণ বাংলার বিজেপি কর্মীদের কাছে বাড়তি অক্সিজেন।
বিজেপি নেতৃত্বের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট—যোগী আদিত্যনাথের চড়া সুরের বক্তব্যের মাধ্যমে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এককাট্টা করা এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের চাঙ্গা করা।
বাড়তে পারে সভার সংখ্যা?
বিজেপির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, যোগীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর সভার সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে আরও করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং উত্তরবঙ্গের একাংশে যোগীর চাহিদা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা:
“বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে যোগী আদিত্যনাথের প্রবেশ কেবল প্রচার নয়, বরং এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘যুবসাথী’, অন্যদিকে বিজেপির ‘হিন্দুত্ব’ ও ‘বুলডোজার মডেল’—এই লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।”
বাংলার রাজপথে যোগীর হুঙ্কার কতটা ভোট টানে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।